মানব মস্তিষ্কে ‘ইলেকট্রনিক্স’ বসাবে চীন, নেপথ্যে ‘সাজাপ্রাপ্ত’ মার্কিন বিজ্ঞানী!

৫ দিন আগে
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন চীন থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে ‘মিথ্যা’ বলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিজ্ঞানী শেনজেনে তার গবেষণাগারটি পুনর্নির্মাণ করেছেন। তার উদ্দেশ্য, চীন সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা, আর তা হলো: মানব মস্তিষ্কে ‘ইলেকট্রনিক্স স্থাপন’।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, ৬৭ বছর বয়সি চার্লস লিবার ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেসের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষকদের একজন। এই প্রযুক্তিটি এএলএস-এর মতো রোগের চিকিৎসায় এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের চলাচলের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে।

 

তবে এর সম্ভাব্য সামরিক প্রয়োগও রয়েছে: মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্যানুসারে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বিজ্ঞানীরা মানসিক ক্ষিপ্রতা ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়িয়ে ‘সুপার সোলজার’ তৈরির উপায় হিসেবে ব্রেইন ইন্টারফেস নিয়ে গবেষণা করেছেন।

 

রয়টার্স জানায়, বিদেশি প্রতিভা নিয়োগে চীনা একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সাথে নিজের সম্পর্ক বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বিবৃতি দেয়া এবং একটি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংক্রান্ত কর অপরাধের জন্য চার্লস লিবারকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দোষী সাব্যস্ত করে জুরি।

 

সেই সময়ে লিবার দুই দিন কারাগারে এবং ছয় মাস গৃহবন্দি ছিলেন। তাকে ৫০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস)-কে ৩৩ হাজার ৬০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। 

 

আরও পড়ুন: এআই: মানব মস্তিষ্কের প্রতিদ্বন্দ্বী নাকি সহায়ক?

 

মামলা চলাকালীন ওই গবেষকের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি দুরারোগ্য লিম্ফোমায় ভুগছিলেন এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন।

 

সাজা ঘোষণার তিন বছর পর রয়টার্স জানতে পেরেছে, চার্লস লিবার এখন চীনের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত আই-ব্রেইন (i-BRAIN) বা ইনস্টিটিউট ফর ব্রেইন রিসার্চ, অ্যাডভান্সড ইন্টারফেসেস অ্যান্ড নিউরোটেকনোলজিস-এর তত্ত্বাবধান করছেন। সেখানে তিনি বিশেষায়িত ন্যানোফ্যাব্রিকেশন সরঞ্জাম এবং প্রাইমেট গবেষণার অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন, যা হার্ভার্ডে তার জন্য সহজলভ্য ছিল না।

 

গবেষণাগারটি শেনজেন মেডিকেল একাডেমি অফ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রান্সলেশন বা স্মার্ট (SMART)-এর একটি শাখা।

 

ডিসেম্বরে শেনজেনের একটি সরকারি সম্মেলনে চীনে নিজের আগমন প্রসঙ্গে লিবার বলেন, ‘আমি ২৮ এপ্রিল, ২০২৫-এ একটি স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম, আর তেমন কিছুই না, হয়তো দু-এক ব্যাগ জামাকাপড় সাথে ছিল। ব্যক্তিগতভাবে, আমার নিজের লক্ষ্য হলো শেনজেনকে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় করে তোলা।’ 

 

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেসের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষক চার্লস লিবার। ছবি: রয়টার্স 

 

তবে একজন সহকারীর মাধ্যমে ‘বর্তমান ব্যস্ততার’ কারণ দেখিয়ে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন লিবার। তিনি রয়টার্সের লিখিত প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি।

 

আই-ব্রেইনের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালে ১ মে তারিখের একটি পোস্ট অনুসারে, স্মার্ট গত বছর লিবারকে একজন তদন্তকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই খবরটি কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। একই দিনে, আই-ব্রেইন জানায় যে লিবারকে তাদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যদিও সেই সময়ে এই ঘোষণাটি অপ্রকাশিত ছিল।

 

সূত্র: রয়টার্স

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন