আপাতত চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও, রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে নিজের শরীরকে সর্বোচ্চ ফিটনেসে ধরে রাখতে পেরেছেন। এর পেছনে রয়েছে তার নিরলস পরিশ্রম, শরীর ও মন দুটোই ধারালো রাখার জন্য তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
এই অসাধারণ দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ফল হিসেবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সৌদি প্রো লিগে তার চুক্তি রয়েছে। এমনও ধারণা করা হচ্ছে, ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করুক বা না-করুক, তিনি এর পরেও খেলা চালিয়ে যেতে পারেন।
মার্টিনেজের মতে, যতদিন রোনালদোর ভেতরে খেলার ক্ষুধা থাকবে, ততদিন তাকে থামানোর কিছু নেই। তিনি মনে করেন, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা এই খেলোয়াড় নিজের ইচ্ছাতেই একসময় অবসর নেবেন।
রবার্তো মার্টিনেজ বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে, রোনালদোকে নিয়ে সবসময় আলোচনা থাকবে, কারণ সে একাই একটা ইতিহাস, ফুটবলকে বদলে দিয়েছে। লিফটে উঠলেও মানুষ আবহাওয়া না, রোনালদো নিয়েই কথা বলে।’
আরও পড়ুন: রোনালদোও কী মেসির মতো হতে চান?
তিনি আরও বলেন, 'মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল হলো, তারা বর্তমানের রোনালদোকে বিশ্লেষণ করে না। ইউরোর পর বলা হলো, "পর্তুগাল জিততে পারেনি কারণ ক্রিস্টিয়ানো খেলছে।" আবার আমরা নেশনস লিগ জিতলে বলা হয়, "রোনালদো অবসর নিলে কী হবে?"
আমি সবসময় ভাবতাম শরীরই একজন খেলোয়াড়কে অবসর নিতে বাধ্য করে। কিন্তু আসলে তা নয়, মাথা (মানসিকতা) সেটা ঠিক করে। রোনালদোর মাথা এখনো সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি। একজন এলিট খেলোয়াড়ের মূল শক্তি শুধু প্রতিভা নয়, তার মানসিকতা ও দৃঢ়তা।’
‘সে এখন আর উইঙ্গার নয়, সে বক্সের ভেতরের স্ট্রাইকার (নাম্বার ৯)। আমরা তার ওপর নির্ভর করি জায়গা তৈরি করা ও গোল করার জন্য। গত তিন বছরে জাতীয় দলে তার পারফরম্যান্স—৩০ ম্যাচে ২৫ গোল, যা প্রমাণ করে সে এখনও যোগ্য,’–মার্টিনেজ যোগ করেন।
রোনালদো পর্তুগালকে দুটি উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো শিরোপা এনে দিয়েছেন। ছবি: রয়টার্স
মার্টিনেজ আরও জানান, কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথমেই রোনালদোর মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি বয়স হলে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলের বিরতিকে বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে দেখে। কিন্তু রোনালদোর মনোভাব একটাই, "আমি জাতীয় দলের জন্য আছি, যা প্রয়োজন তাই করব।”’
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ভেন্যু আজতেকা স্টেডিয়াম থেকে পড়ে এক দর্শকের মৃত্যু
রোনালদো এখন পর্যন্ত ২২৬টি ম্যাচে ১৪৩টি গোল করেছেন, যা পুরুষ ফুটবলে অনন্য রেকর্ড। এবার তিনি চেষ্টা করবেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি’র মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নিতে।
তবে মার্টিনেজ বলছেন, দলে অতিরিক্ত চাপ নেই, ‘পর্তুগালে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য চাপ নেই, বরং আছে উত্তেজনা ও আশা। আমাদের দলে ব্রুনো ফার্নান্দেস, দিওগো কস্তা, বের্নার্দো সিলভা’র মতো খেলোয়াড় আছে, যা সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস দেয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা জানি, আমরা কখনো বিশ্বকাপ জিতিনি, মানে কাজটা কঠিন। ছোট ছোট ভুলও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই, এটাই আমি আমার দলের মধ্যে দেখতে চাই।’
বর্তমানে রোনালদো চোটের কারণে দলে নেই, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলছেন না। পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন, যেখানে প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ হতে পারে ডিআর কঙ্গো বা জ্যামাইকা। এরপর গ্রুপ কে-তে তারা খেলবে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে।
]]>

২ সপ্তাহ আগে
৬







Bengali (BD) ·
English (US) ·