মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো শত বছরের প্রাচীন মটকা

২ সপ্তাহ আগে
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাটি খুঁড়ে প্রাচীন আমলের বিশাল আকৃতির একটি মটকা পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় পুরনো একটি ভবন ভেঙে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খনন করার সময় ওই পোড়া মাটির তৈরি মটকাটি বেরিয়ে আসে।

ওই মটকাটি সম্পূর্ণ খালি এবং অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভেতরে কিছুই ছিল না। এর গঠনশৈলী এবং আকার দেখে শত বছরের প্রাচীন আমলের বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।


এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মটকাটি দেখতে এলাকার উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ।


তিনি জানান, এই স্থানটিতে এক সময় রূপালি প্রেস হাউজ নামে পাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় অনেকগুলো গুদাম ছিল। পাটের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত প্রায় দুই দশক আগে গুদামগুলোসহ বিপুল পরিমাণ জমি প্লট আকারে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে।


আরও পড়ুন: গাজীপুরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া ১৬ গ্রেনেড নিষ্ক্রিয়


তবে একটি ভবন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। যিনি জমিটি ক্রয় করেছেন তিনি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত পাঁচ মাস ধরে পুরনো ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। শনিবার সকালে সিঁড়ি ভেঙে মাটি খনন করতে গেলে মাটির নিচে প্রায় ৪০ ফুট গভীরে মটকাটি দেখতে পান শ্রমিকরা। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মটকাটি দেখেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয় বলেও জানান সাবেক এই জনপ্রতিনিধি।


এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার জানান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর সঠিক নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিশ্চিত করতে পারবেন। বর্তমানে মটকাটি স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।


জানা গেছে, বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রায় সব বাড়িতেই পানি সংরক্ষণের জন্য মাটির তৈরি মটকা ব্যবহার করা হতো। মাটি দিয়ে ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির মটকা তৈরি করে রোদে শুকিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে পাকাপোক্ত করা হতো।


আরও পড়ুন: মাটি খুঁড়ে মিলল ২ কোটি টাকার হেরোইন


পুকুর কিংবা কূপ (কুয়া) থেকে পানি তুলে এনে মাটির মটকায় ভরে সংরক্ষণ করে রাখা হতো। সেই মটকার পানি খাওয়া, গোসলসহ গৃহস্থালি সব কাজে ব্যবহার হতো। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় চাপকল (টিউবওয়েল) ও গভীর নলকূপের ব্যবহার শুরু হলে মাটির মটকার ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই মটকা বিলুপ্ত হতে থাকে।


তবে তিন থেকে চার দশক আগেও দেশের বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে মটকা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন