মা-বাবাকে গালি দেয়া কবিরা গুনাহ

৩ সপ্তাহ আগে
কথায় কথায় ঝগড়া বিবাদ করা। কথা কাটাকাটি ও তর্ক করা, এসব মানুষের চিরাচরিত অভ্যাস। কারও ক্ষেত্রে বিপরীত পক্ষকে ঘায়েল করতে গালি দেয়া এটাই হলো তার একমাত্র হাতিয়ার। অথবা উপস্থিত বুদ্ধি ও যুক্তি তর্কে না পেরে কাউকে গালি দেয়া। মা বাবার নাম তুলে, বংশের কথা বলে, গোষ্ঠী ও বর্ণের খোঁচা দিয়ে গালমন্দ করা।

এগুলো হচ্ছে মানুষের সাধারণ স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য। তবে নিঃসন্দেহে এসব নিকৃষ্ট ও মন্দলোকের কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, কোনো সৎলোক, ভালো মানুষ কখনো কাউকে গালি দেন না। বকাঝকা করা, গালমন্দ করে ছোট করা এসব তাদের অভ্যাস নয়। বরং এসব হচ্ছে নীচু শ্রেণির লোকদের কাজ। 

 

কথিত আছে, হজরত আলী রা. বলেন, নীচু লোকের হাতিয়ার হচ্ছে কাউকে গালি দেওয়া। প্রকৃত শিক্ষা দীক্ষা অর্জনকারী মানুষ কখনো কাউকে গালি দিতে পারেন না। মতের অমিল হলেই গালি দিতে হবে, এটি অত্যন্ত নিন্দিত কাজ। এমনকি হাদিসে গালি দেওয়াকে ফাসেকি কাজ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ  তায়ালা বলেন

 

হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে (গালমন্দ, হেয় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে) উপহাস না করে। কেননা যাকে উপহাস করা হয়,  হতে পারে সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম। কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয়, সে উপহাসকারিনী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরনের আচরণ হতে নিবৃত্ত না হয় তারাই জালিম। (সুরা হুজুরাত: ১১)


 

আর জালিম, অত্যাচারী তার অন্যায় ও জুলুমের মাধ্যমে সমাজে, রাষ্ট্রে এমনকি পুরো পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ঘরের পরিবেশ নষ্ট করে। সমাজের শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলে। রাষ্ট্রের অধীনস্থ প্রজাদের ওপর নির্যাতন করে শৃঙ্খলা নষ্ট করে। অশান্তি সৃষ্টি করে সর্বত্র। কুরআনের ভাষায়আর যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং আছে মন্দ আবাস। (সুরা রাদ: ২৫)

 

আরও পড়ুন: সেহরি না খেয়ে কি রোজা রাখা যাবে?

 

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কবিরা (মারাত্মক বড়ো) গুনাহসমূহের একটি হলো, আপন বাবা–মাকে গালি দেওয়া। (উপস্থিত সাহাবিদের মধ্য থেকে) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আপন বাবা–মাকে কি কেউ গালি দেয়?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, সে (কোনো ব্যক্তি, যে কোনো একজন) লোকের পিতাকে গালি–গালাজ করে, তখন সেও তার পিতাকে গালি –গালাজ করে থাকে এবং সে (যে ব্যক্তি) অন্যের মা–কে গালি দেয়। সুতরাং সেও (কেমন যেন) তার (আপন) মা–কেই গালি দেয়। (সহি বুখারি ও সহি মুসলিম)

 

অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘‘কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে একটি হলো নিজের পিতা-মাতাকে অভিশাপ করা। (সাহাবিদের পক্ষ থেকে) জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের পিতা–মাতাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, সে যখন অন্য কারও পিতাকে গালি –গালাজ করে। তখন সেও তার পিতাকে  গালি -গালাজ করে থাকে। আর সে অন্যের মা–কে গালি দেয়; বিনিময়ে সেও তার মা-কে  গালি দেয়। (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে তিরমিজি)

 

এ হাদিসের আলোকে স্পষ্ট বুঝে আসে যে, কেউ যখন কারও বাবা মা ভাই বোন ইত্যাদি নিকটাত্মীয়কে তুলে গালি দেয়। বিভিন্ন গালমন্দ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। প্রকারান্তরে সে যেন তার আপন মা বাবাকেই গালি দেয়। কারণ, কাউকে গালি দেওয়া হলে, সেও অনুরূপ গালি দিবে। গালমন্দ করবে। আর এটাই হচ্ছে প্রথমোক্ত গালিদাতার মা বাবাকে গালি দেওয়া।

 

‎সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি (আল্লাহর অবাধ্যাচরণ) এবং তার সাথে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি। (সহি বুখারি)

 

যে কোনো মানুষকে গালমন্দ করা নিঃসন্দেহে নিকৃষ্ট আচরণ, যা মহান আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হওয়ারও নামান্তর। আমরা এ জাতীয় মন্দ আচরণ করা থেকে বিরত থাকব। একইভাবে কাউকে গালি দিয়ে, হেয় তুচ্ছ করে নিজেকেই অপমান অপদস্ত হেয় করব না।

 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন