‘মা আমাকে নিয়ে যাও’ বলে কবরের পাশে শিশুর কান্না

৩ সপ্তাহ আগে
‘মা আমাকে নিয়ে যাও, কেন আমাকে রেখে গেলে’ বলে মায়ের কবরের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছে ১২ বছরের এক শিশু। সৎ মায়ের অমানবিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মায়ের কবরে গিয়ে এভাবেই আর্তনাদ করছিল সে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অবশেষে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ওই সৎ মাকে ডেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিশুটির নাম ছামিয়া (১২)। তার বাড়ি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ায়। তার বাবা সোয়াব মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী। স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে ছামিয়ার আপন মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, আপন মা না থাকার সুযোগে সৎ মা ছামিয়ার ওপর প্রতিনিয়ত নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তাকে দুই দিন বেঁধে ঘরে আটকে রেখে মারধরও করা হয়। প্রবাসী বাবা এসব ঘটনা জানার পরও কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সৎ মায়ের এসব নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েই মেয়েটি তার মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ওই কথাগুলো বলছিল।

 

আরও পড়ুন: প্রেমিকের ফাঁসির দাবিতে শিশুকন্যার মরদেহ নিয়ে রাস্তায় মা

 

শিশুটির কান্নার ওই ভিডিওটি সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি নজরে আসার পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু।

 

ইউএনওর নির্দেশে এদিন দুপুরে সৎ মাসহ শিশুটিকে তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে সৎ মা নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করবেন না বলে অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। এ সময় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিষয়ে ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, শিশুটির সৎ মাকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন