মহাসড়ক থেকে গ্যাস লাইন সরাচ্ছে না তিতাস, থমকে আছে সংস্কার কাজ

১ দিন আগে
বার বার চিঠি চালাচালির পরও কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট নির্মাণাধীন মহাসড়ক থেকে সরানো হচ্ছে না ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস লাইন। এতে বন্ধ হয়ে আছে সড়কের নির্মাণ কাজ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

অভিযোগ উঠেছে, গ্যাস লাইন সরাতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সড়ক বিভাগের (সওজ) কাছে প্রায় দেড় কোটি টাকা দাবি করা ছাড়াও গ্রাহকদের কাছে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে দাবি করছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অদূরে সতাল এলাকায় নির্মাণাধীন ব্যস্ততম সড়কের দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য আবাসিক গ্যাস সংযোগের রাইজার। এমন বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

 

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণসহ ছয়না-যশোদল-চৌদ্দশত বাজার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জেলা সড়ক বিভাগ। 

 

প্রকল্পের আওতায় জেলা শহরের একরামপুর রেলগেট থেকে সতাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ৬৫টি ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক গ্যাস সংযোগের রাইজার ও সঞ্চালন পাইপ সরিয়ে দিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সড়ক বিভাগ। কিন্তু ছয় দফা চিঠি দেয়ার পরও কোনো উদ্যোগ নেয়নি গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সওজের জমিতে বিনা অনুমতিতে গ্যাস লাইনের পাইপ ও রাইজার বসানো হলেও এগুলো সরাতে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে সড়ক বিভাগে চিঠি দেয় তিতাস গ্যাস। শুধু তাই নয়, এ জন্য প্রতিজন গ্রাহকের কাছেও ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

 

তিতাস গ্যাসের গ্রাহক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে মূল রাস্তায় গ্যাসের রাইজার ও পাইপ পড়ে আছে। পাইপ ঘেঁষে চলাচল করছে যানবাহন। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লাইন সরাতে তিতাস গ্যাসের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নানা টালবাহানা করছে। তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে।’

 

তারাপাশা এলাকার বাসিন্দা ও আবাসিক গ্যাস গ্রাহক খায়রুল আলম ফয়সাল অভিযোগ করেন, ‘রাস্তা সম্প্রসারণ কাজ শুরু হওয়ার পর বিদ্যুৎ ও পানির লাইন সরিয়ে নেয়া হলেও তিতাস আমাদের লাইন সরিয়ে দিচ্ছে না। প্রত্যেক গ্রাহকের কাছে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংযোগ নেয়ার সময় টাকা দিয়েছি। নিয়মিত বিল দিচ্ছি। তাহলে লাইন সরাতে তিতাসকে টাকা দিতে হবে কেন?’

 

আরও পড়ুন: ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নারীসহ আহত ২০

 

গ্যাস লাইন সরাতে গ্রাহকদের কাছেই নয়, সড়ক বিভাগের কাছেও চিঠি দিয়ে টাকা দাবি করছে তিতাস গ্যাস।

 

কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, নীতিমালা অনুযায়ী সড়ক-মহাসড়কের পাশে অনুমোদন সাপেক্ষে ইউটিলিটি লাইন স্থাপন করা যাবে। তবে মহাসড়ক উন্নয়ন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সময় ওই ইউটিলিটি সংযোগের সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে নির্ধারিত সময়ে সেটি সরিয়ে নিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু নীতিমালা মানছে না তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সড়ক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সড়কের পাশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সংযোগ ও রাইজার জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে তিতাস গ্যাসের উপ-মহাব্যবস্থাপকের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে লাইন সরাতে সওজের কাছে টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন। তবে গ্রাহকদের কাছে ৭০ হাজার টাকা করে চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। 

 

তিনি বলেন, ‘লাইন সরাতে যত টাকাই খরচ হোক, তা গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হবে।’ তাহলে সড়ক বিভাগের কাছে টাকা দাবি করছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবস্থাপক বলেন, ‘গ্রাহকদের যাতে টাকা দিতে না হয়, এ জন্য সড়ক বিভাগের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।’

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ৭৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে আট কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণসহ কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন