এ ধরনের কিছু হলে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলিমদের জীবনে কী ঘটবে তা নিয়ে ভয়ভীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সেক্ষত্রে এসব মানুষদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপতে পারে আরেকটি শরনার্থী সংকটের বোঝা।
বিচ্ছিন্ন সহিংসতা-ইভিএম কারচুপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে ২৯ মে শেষ হয় বিধানসভা নির্বাচন। ভোট দেয়ার হার ছিল রেকর্ড পরিমান। ভোটের পর বুথ ফেরত জরিপে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই হিসেব মিলে গেলে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে। আর বাংলা দখলে বিজেপির দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা আলোর মুখ দেখবে।
আরও পড়ুন:পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: কড়া নিরাপত্তায় ফল প্রকাশ সোমবার
২৯ এপ্রিল কলকাতাসহ ৭ জেলার ১৪২ আসনে ভোট হয়। এর আগে, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোট হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ২৯৪ আসন। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ১৪৮ আসন।
ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সংস্থার বুথ ফেরত জরিপের ফল প্রকাশ শুরু হয়। বেশিরভাগ জরিপেই এগিয়ে আছে বিজেপি। একটি জরিপ আবার ত্রিশঙ্কু বিধানসভার সম্ভাবনার কথাও বলছে।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মমতার দুর্গ এবার ভেদ করছে বিজেপি, এমন আভাস মিলেছে।
যদিও জরিপ পরিচালনাকারী ২ সংস্থা জনমত পোলস ও পিপলস পালস তৃণমূল কংগ্রেসের জয় ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে তৃণমূলকে সবচেয়ে বেশি ১৯৫-২০৫ আসন দিয়েছে জনমত পোলস। তাদের মতে, বিজেপি পাবে ৮০-৯০ আসন। পিপলস পালসের সমীক্ষাতেও তৃণমূল পাচ্ছে ১৭৭-১৮৭ আসন। বিজেপি ৯৫-১১০। তবে বাকি সংস্থাগুলো এগিয়ে রেখেছে বিজেপিকে।
বেসরকারি সংস্থা ম্যাট্রিজের বুথফেরত জরিপ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যরা ছয় থেকে ১০টি আসন পেতে পারে। তবে বাম বা কংগ্রেস এ রাজ্যে খাতা খুলতে পারবে না বলে দাবি করেছে তারা।
ভারতের রাজনৈতিক গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান চাণক্য স্ট্র্যাটেজির প্রকাশিত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গেছে। ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে তারা। তৃণমূল পাচ্ছে ১৩০ থকে ১৪০টি আসন। অন্যরা ছয় থেকে ১০টি আসন পেতে পারে। বাম ও কংগ্রেসের আসন শূন্য।
পি-মার্কের জরিপে পশ্চিমবঙ্গে তারা বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে। তাদের মতে, এ রাজ্যে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে। অন্য দিকে, তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। অন্যরা কোনো আসন পাবে না।
প্রজা পোলের জরিপে বিজেপিকে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে তৃণমূল পেতে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্য দলগুলো শূন্য থেকে পাঁচটি আসনে জিততে পারে বলে এই জরিপে দাবি করা হয়।
এদিকে, পোল ডায়েরির জরিপ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ৯৯ থেকে ১২৭টি। অন্যদের পাঁচ থেকে ৯টি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
টাইমস নেটওয়ার্ক পরিচালিত জেভিসির জরিপে তৃণমূলকে ১৩১ থেকে ১৫২টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। বিজেপি পেতে পারে ১৩৮ থেকে ১৫৯টি। কংগ্রেসকে শূন্য থেকে দুটি আসন দেয়া হয়েছে এই সমীক্ষায়।
এসব সমীক্ষার গড় হিসাব কষে এনডিটিভি পোল অব পোলস দেখাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হতে চলেছে। অর্থাৎ কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তাদের হিসাবে, তৃণমূল পাচ্ছে ১৪৬, বিজেপি ১৪০, কংগ্রেস ২, সিপিএম ১ ও অন্যান্যরা ৫ আসন।
পশ্চিমবঙ্গে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হতে চলেছে। অর্থাৎ কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তাদের হিসাবে, তৃণমূল পাচ্ছে ১৪৬, বিজেপি ১৪০, কংগ্রেস ২, সিপিএম ১ ও অন্যান্যরা ৫ আসন।
সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২১৩, বিজেপি ৭৭।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৭০ বছরের ভোটের ইতিহাস এবার পাল্টে গেছে। সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাররা তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে। বাংলায় আসছে বিজেপি রাজ।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে দেড় দশকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কিছুটা অসন্তুষ্ট। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার নিয়ে সরব মমতা। প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও।
মমতার দাবি, বহিরাগত পুলিশ পর্যবেক্ষকরা বিজেপির তালে নেচে তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করছে। অতি সক্রিয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও ভোটের মাঠে ভয়ভীতি ছড়িয়েছে।
এছাড়াও, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের কিছু শীর্ষ আমলা এবং পুলিশকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে, এ নিয়েও মমতা ব্যানার্জি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিজেপি সংশ্লিষ্টরা বলছে, হারের আভাস পেয়েই এখন নানা ধরনের অভিযোগ করছেন মমতা।
তবে মমতা বলছেন, অবাধ ভোটের নামে অত্যাচার চলেছে। তা সত্ত্বেও, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূলই জিতবে বলে দাবি তার। তার এই দাবি ভোটের সত্যিকারের চিত্র না কি অতিকথন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ মে পর্যন্ত।
এদিকে, প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফার ভোটদানেও রেকর্ড। ভোট পড়েছে ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে, ৯৩দশমিক ৫১ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কলকাতা দক্ষিণে, ৮৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।
রক্তপাতহীন ভোট করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ঠেকানোও বড় চ্যালেঞ্জ। আর সে কারণেই রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড় অংশ ভোটের পরও বেশ কয়েকদিন থেকে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:বিধানসভা নির্বাচন: ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কায় নিজেই পাহারায় বসলেন মমতা
প্রশাসনের তরফে ভোট নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে দাবি করা হলেও, বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তি ও অভিযোগের খবর শোনা গেছে। ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথের বাইরে চাপ তৈরি, ইভিএম বিভ্রাট এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার অভিযোগও জমা পড়েছে।
]]>

২ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·