ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের কোল ঘেঁষে কেরাণীগঞ্জে ৯ বছর আগে যাত্রা করে ঝিলমিল রেসিডেন্সিয়াল পার্ক প্রকল্প। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য রাজধানীতে থাকবে অন্তত একটি ফ্ল্যাট এমন স্বপ্ন দেখানো প্রকল্পে গাছগাছালি, রাস্তা, ড্রেন আর বিদ্যুতের খুঁটি বসলেও ওঠেনি একটিও ভবন।
অথচ, কথা ছিল ১৬০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রকল্পে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্লট ও ফ্ল্যাট পাবেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও পেশাজীবীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকবে সুপ্রশস্ত সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, খেলার মাঠ, পার্ক, মাকেট-র্শপিংমল এমনকি কমিউনিটি সেন্টার। সব মিলিয়ে ঢাকার বুকেই এটি হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর।
২০১৭ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব পিপিপি মডেলে চুক্তি হয় মালয়েশিয়ার বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে। প্রস্তাবিত ৮৫টি ভবনের মধ্যে ২০ তলা ৬০টি এবং ২৫ তলা ২৫টি ভবন, যার চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। মোট ১৪ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় বিভিন্ন আকারে ১৪০০, ১৬০০ ও ২২০০ বর্গফুট। চুক্তি অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ৮ বছর। এর মধ্যে ৪ বছর নির্মাণকাল এবং পরবর্তী ৪ বছর রক্ষণাবেক্ষণকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ড্যাপ পুনর্বিন্যাসে ঢাকার আশপাশে ফ্ল্যাটের দাম ৫০ শতাংশ কমতে পারে: রিহ্যাব
কিন্তু সময় গড়িয়েছে, বদলেছে বাস্তবতা। প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও পুরো প্রকল্প এখনও বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজউকের তত্ত্বাবধানে অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ও রাস্তার কিছু কাজ চলছে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সম্প্রতি। মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিএনজি গ্লোবালের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রায় ১৪ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য করা চুক্তি বাতিল করে রাজউক। পিপিপি না হলে রাজউকের অর্থায়নে এই প্রকল্প সংস্থাটি রিডিজাইনের চিন্তা করছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক।
রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘মালয়েশিয়ার দূতাবাস থেকে খবর নিয়ে জেনেছি, এটা করার মতো তাদের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা নেই। এমনকি তাদের অফিসের ঠিকানাও খুঁজে পাইনি। তাদের ৮টি শর্ত ছিল। এর মধ্যে শুধু তারা একটি শর্ত পূরণ করেছে। বাকিগুলো তারা কিছুই করেনি।’
খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক বলেন,
ইমারত নির্মাণ বিধিমালা পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেই নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ যতটুকু প্রাপ্য, সেই অনুযায়ী রিডিজাইন হবে। একবার যেহেতু পিপিপি পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে, তাই পিপিপির মানদণ্ডে ম্যাচ করলে পিপিপিতে হতে পারে, আবার রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নেও হতে পারে।
আরও পড়ুন: বিচারের জন্য প্রস্তুত টিউলিপের ‘ফ্ল্যাট দুর্নীতি’ মামলা
ঝিলমিল প্রকল্প আপাতত বাতিল মানেই শেষ নয় বলে মনে করেন রাজউক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের পরিকল্পনা হলো, কাউকে আর প্লট দেব না, ফ্ল্যাট দেব। কারণ ঢাকা শহরে প্লট দিয়ে বিলাসিতা করা আমাদের সাজে না।’
৯ বছরেও ঝিলমিল প্রকল্প আলোর মুখ না দেখার জন্য বিগত সরকারকেই দুষলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে ১৭ থেকে ১৮ বছরে যে সরকার ছিল, মূলত দায়িত্বটা তাদের।’
]]>
৭ ঘন্টা আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·