চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা ডিজেল খালাস করা ইয়ান জেং হি নামের জাহাজ ফিরে যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা ডিজেলবাহী সান গ্যাং ফা জিয়ান নামের জাহাজ বার্থিং নিয়েছে। এভাবেই মার্চ মাসে একে একে ৪২টি জাহাজের মধ্যে ৩৮টি খালাস শেষে দেশে ফিরে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ায় এখন স্পট মার্কেটের পাশাপাশি অপ্রচলিত দেশগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম বন্দরের হারবার অ্যান্ড মেরিন সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্যোগ এবং নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান ও মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো সহজেই পণ্য খালাস করতে পারে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ আক্রান্ত মার্চ মাসে বাংলাদেশ ৪ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল, বেজ অয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানি করেছে। এটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসের তুলনায় ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। একই সময়ে ৬০৩ কোটি টাকা মূল্যের ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ও এলএনজি আমদানি হয়েছে, যা ৯৫.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি এবং আগের বছরের তুলনায় ৩৬ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন বেশি।
আরও পড়ুন: দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ সাময়িক বন্ধের শঙ্কা!
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, পরিশোধিত তেল চলতি বছর ২৮ শতাংশের বেশি এসেছে। ধারাবাহিতা বজায় থাকলে কোনো সংকট হবে না।
তবে আন্তর্জাতিক নৌরুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ক্রুড অয়েল আমদানি ধস নেমেছে। গত বছরের মার্চে ২ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি হলেও চলতি বছরের মার্চে মাত্র ৫৯৮ কোটি টাকা মূল্যের ৬৫ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন এসেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে বাংলাদেশের জন্য কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল। এই ক্রুড অয়েল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন হিসেবে বাজারজাত করা হয়।
পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্য দেশ থেকেও জ্বালানি আনা প্রয়োজন। এতে চাপ কমবে।
এদিকে, সরকার আপদকালীন হিসেবে সৌদি আরব এবং কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন করে ডিজেল এবং ২ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বাইরে পরবর্তীতে দরপত্রের মাধ্যমে ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
]]>
২ ঘন্টা আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·