জ্বালানি তেল নিতে দেড় মাস ধরে ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড় ও ভোগান্তি কমছে না। মূলত অকটেন নিতেই ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভিড় করছে। গত মাসের তুলনায় এ মাসে অকটেনের সরবরাহ কমায় প্রতিদিন ঢাকার পাম্পে তেল নেওয়ার লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অথচ দেশে অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত আছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী রোববার থেকে বাজারে অকটেন সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি বলছে, বাজারে অকটেনের সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে।
দেশে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের একমাত্র সরকারি সংস্থা বিপিসি। তাদের অধীন থাকা তিন বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিলারদের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে তারা। বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হলে ফিলিং স্টেশনের লাইন কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিপিসি ও তেল বিপণন কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রলপাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে। কিন্তু গত বছর একই দিনে তারা যতটুকু তেল নিয়েছে, এবারও তা দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না।জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ বাড়ানো না হলে অকটেন রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। দেশে সব মিলে অকটেন মজুত করার সক্ষমতা আছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। ১৫ এপ্রিল বিক্রির পর অকটেন মজুত আছে ৩০ হাজার ৬৬৭ টন, যা বর্তমান সরবরাহ বিবেচনায় ২৬ দিনের মজুত। আজ শুক্রবার ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। স্থানীয় উৎস থেকেও প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৭০০ টন অকটেন যুক্ত হচ্ছে।
অকটেন নিচ্ছেন একজন মোটরসাইকেল আরোহী। আসাদগেট, ঢাকাবিপিসি ও তেল বিপণন কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রলপাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে। কিন্তু গত বছর একই দিনে তারা যতটুকু তেল নিয়েছে, এবারও তা দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না। এটি নজরদারি করছে জ্বালানি বিভাগ। এর ব্যত্যয় হলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাই বাড়তি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। এতে তেল নিতে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
বিপিসির তথ্য বলছে, গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ টন। যুদ্ধের মধ্যে চাহিদা বাড়ায় এবার মার্চে দিনে সরবরাহ ২৬ টন বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২১৯ টন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এপ্রিলে সরবরাহ কমেছে ৪৯ টন। আর গত মাসের তুলনায় এ মাসে সরবরাহ কমেছে ১০৪ টন। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ডিপো থেকে গড়ে সরবরাহ হয়েছে ১ হাজার ১১৫ টন অকটেন।
পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির একাংশের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম২৫ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ ইতিবাচক। তবে শুধু পেট্রলপাম্পে নয়, এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলারসহ সবাইকেই তেল সরবরাহ করতে হবে। না হলে সব গ্রাহকের চাপ পেট্রলপাম্প সামলাতে পারবে না।বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কোনো কারণে রোববার না হলেও সোমবার থেকে বাজারে ২৫ শতাংশ বাড়তি অকটেন সরবরাহ করার চিন্তা আছে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানোর ইচ্ছা আছে, বিশেষ করে কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এটি করা হবে।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিং স্টেশনের নামে দৈনিক তেল সরবরাহের বরাদ্দপত্র তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। গত বছরের চেয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পাম্পের বর্তমান বিক্রি, মানুষের ভিড় বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা মূল্যায়ন করবে জেলা প্রশাসন। এর ভিত্তিতে কোনো পাম্পে তেল সরবরাহ বাড়ানোর সুপারিশ করবে তারা।
পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির একাংশের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ ইতিবাচক। তবে শুধু পেট্রলপাম্পে নয়, এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলারসহ সবাইকেই তেল সরবরাহ করতে হবে। না হলে সব গ্রাহকের চাপ পেট্রলপাম্প সামলাতে পারবে না।
মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে সাধারণত জ্বালানি তেল হিসেবে অকটেন ব্যবহৃত হয়। বছরে সরবরাহ করা মোট জ্বালানি তেলের ৬ শতাংশ অকটেন। গত অর্থবছর দেশে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। আর বাকি ৫০ শতাংশ আমদানি করা হয়। এপ্রিলে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন।
জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় হয়তো সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। এখন বাড়ালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না–ও আসতে পারে। তবে সরবরাহ বাড়ানো হলে মানুষের আতঙ্ক কমাতে সহায়তা করবে। পেট্রলপাম্প থেকে গাড়িতে তেল সরবরাহের সীমাও বাড়াতে হবে।সরকারি শোধনাগার থেকে একসময় পাওয়া গেলেও এখন আর অকটেন পাওয়া যায় না। তবে দেশের চারটি বেসরকারি শোধনাগার থেকে নিয়মিত অকটেন কেনে বিপিসি। দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া ও আমদানি করা কনডেনসেট শোধন করে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে তারা। এ চার শোধনাগার হলো চট্টগ্রামের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড, পারটেক্স পেট্রো লিমিটেড, নরসিংদীর অ্যাকোয়া রিফাইনারি লিমিটেড ও বাগেরহাটের পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড। এ ছাড়া সরকারি গ্যাস কোম্পানির নিজস্ব ফ্রাকসেনেশন প্ল্যান্ট থেকেও অকটেন পায় বিপিসি।
ভিড় কমাতে কিউআর কোডের মাধ্যমে ঢাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত শুধু ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিবন্ধন করতে পারছে। কোম্পানির নামে থাকা মোটরসাইকেল নিবন্ধন করতে পারছেন না চাকরিজীবীরা। ব্যক্তিগত গাড়িও যুক্ত করা হয়নি। মাঝেমধ্যে কারিগরি সমস্যাও হচ্ছে। তবে বিপিসি বলছে, এটি পরীক্ষামূলক। যেসব আপত্তি আসছে, এগুলো সমাধান করা হচ্ছে। এ মাস শেষে এটি চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর সারা দেশে উন্মুক্ত করা হবে।
জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় হয়তো সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। এখন বাড়ালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না–ও আসতে পারে। তবে সরবরাহ বাড়ানো হলে মানুষের আতঙ্ক কমাতে সহায়তা করবে। পেট্রলপাম্প থেকে গাড়িতে তেল সরবরাহের সীমাও বাড়াতে হবে।








Bengali (BD) ·
English (US) ·