স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যেরচর একাডেমি সংগঠনের উদ্যোগে এলাকায় একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সেমিফাইনাল ম্যাচে ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ ও মধ্যেরচর কলেজপাড়া একাদশ মুখোমুখি হয়। খেলার একপর্যায়ে কলেজপাড়া একাদশ গোল দিলেও পরবর্তীতে ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ দ্রুত দুটি গোল পরিশোধ করলে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
টুর্নামেন্ট কমিটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করলে কলেজপাড়া একাদশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুক্রবার রাতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও উত্তেজনা কমেনি।
শনিবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য বৈঠকে বসেন। তবে আলোচনা চলাকালীন দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে বেরিয়ে যায়। এরপরই মধ্যেরচর পশ্চিম পাড়া (বড় বাড়ি) এবং পূর্ব পাড়া (কলেজ পাড়া, পাঁচ বাড়ি, আলগা বাড়ি ও উলাইস্যা বাড়ি) দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি, বল্লম, টেঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। টানা তিন ঘণ্টা ব্যাপী এই রণক্ষেত্রে অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া, ওয়াসকুরুনী, জিনিয়া বেগম, ইমন মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, সাঝু মিয়া, সবুজ মিয়া, শরীফ মিয়া, মাহবুল মিয়া, পাবেল মিয়া, ইকবাল হোসেন ও সালমান ফরাজিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল করীম জানান, "আহতদের মধ্যে সবুজ মিয়া ও সাদ্দাম মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।"
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম. আজিমুল হকের নেতৃত্বে ভৈরব থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তাদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

৫ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·