স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় চালানো বড় ধরনের হামলার পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। পরে জানানো হয়, নিউইয়র্কে মাদক সংক্রান্ত মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, মাদুরোর শাসনের অবসান নিয়ে তার সরকার ‘একফোঁটাও চোখের জল ফেলবে না’।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এই অভিযানে জড়িত ছিল না এবং তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেননি। সব তথ্য যাচাই না করে তিনি কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি সরাসরি হামলার নিন্দা করেননি। পরে সামাজিক মাধ্যমে স্টারমার লেখেন, মাদুরোকে যুক্তরাজ্য অবৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দেখে।
ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া ও চীনও কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে। চীন বলেছে, একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে তারা ‘গভীরভাবে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ’। রাশিয়ার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ চালিয়েছে।
ইরান এই হামলাকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনেরও টানাপোড়েনে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে ফোন করে ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানালেন মামদানি
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ‘নিরাপদ ও সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দায়িত্ব নেবে।
অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা বলেছেন, এই হামলা ‘গ্রহণযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে’। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে দেশ আক্রমণ করা বিশ্বকে সহিংসতা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলেছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই হামলাকে ‘অপরাধমূলক আক্রমণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিচ উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। উরুগুয়েও সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বেশিরভাগ দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা জানালেও এর সমর্থন করেছে অনেক দেশ। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা এগিয়ে চলছে’ এবং ‘স্বাধীনতা চিরজীবী হোক’। ট্রাম্প আগেই মিলেইকে তার ‘সবচেয়ে প্রিয় প্রেসিডেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান ‘বিপজ্জনক উদাহরণ’: জাতিসংঘ মহাসচিব
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস বলেন, মাদুরোর বৈধতা নেই, তবে ক্ষমতা পরিবর্তন হতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একই কথা বলেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস জানান, এই অভিযানের আইনি দিক জটিল এবং ভেনেজুয়েলায় নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়া উচিত নয়।
এ ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তিনি ভেনেজুয়েলার সব পক্ষকে মানবাধিকার ও আইনের শাসন মেনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে ‘অভিশংসন’ করা উচিত, বললেন জাতিসংঘ দূত
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ নিয়ে সমালোচনা চলছে। সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বলেছেন, মাদুরো একজন অবৈধ স্বৈরশাসক হলেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান চালানো দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কোন পথে যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কূটনৈতিক মহলে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·