মৃতরা হলেন, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) ও একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস, দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান ও ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এই ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, যেসব দালালের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন সন্তান কেউ হারিয়েছেন স্বামী আবার সন্তান হারিয়েছে বাবাকে। রোববার (২৯ মার্চ) দিরাই উপজেলার কুলনজ ইউনিয়নের দুর্গম জনপদ তারা পাশা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথম সপ্তাহে বাবা-মায়ের ও স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গ্রাম ছেড়ে লিবিয়ার পথে যাত্রা শুরু করেন। ঘর থেকে বেরোনোর সময় তিনি তার বাবা মাকে বলেছিলেন ডাক্তার দেখাতে ওষুধ খেতে ও নিজে শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে। কিন্তু শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের স্বজনরা তাকে ফোন করে জানায় লিবিয়া থেকে গ্রিসে আসার পথে ভূমধ্যসাগরে বিকল ট্রলার সাত দিন সাগরের এদিক-ওদিক ভেসে বেড়ায়। এতে ট্রলারের যাত্রীরা খোদা তৃষ্ণা ও শারীরিক দুর্বলতার ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে মানব পাচারকারীদের নির্দেশে তাদের মরদেহগুলো ভূমধ্যসাগরের গভীর জলে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ৪ যুবকের মৃত্যু
নিহতের স্বজনরা জানান, তারাপাশা গ্রামের তিন যুবক, দিরাইয়ের মাটিয়াপুর গ্রামের আরও দুই যুবকসহ মোট পাঁচজন স্থানীয় মানবপাচারকারী মুজিবুর রহমানের সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া থেকে স্বপ্নের দেশ গ্রিসে যাওয়ার চুক্তি করেন। এ সময় মানবপাচারকারী মুজিবুর তাদের আশ্বাস দেন বড় জাহাজে বা বড় ট্রলারে তাদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পৌঁছে দেয়া হবে। কোনো রকম বিপদ ছাড়াই তারা গ্রিসে যাবেন। বাড়ি থেকে বেরোনোর কয়েকদিনের মধ্যে অনেক কষ্ট করে তারা লিবিয়ায় পৌঁছেন।
লিবিয়ার একটি শহরে কিছুদিন থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী একটি গেম ঘরে তাদের দুমাস আটকে রাখা হয়। এ সময় যুবকদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়নি। গেম ঘরে মানবপাচারকারীদের কঠোর নিরাপত্তায় দুমাস কাটিয়ে ২৩ মার্চ তারা লিবিয়ার উপকূল থেকে রাবারের হাওয়াই ট্রলারে চরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসের উপকূলে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে ট্রলারটি বিকল হয়ে পড়ে ও জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।
এদিকে টানা ৭ দিন-রাত তারা সমুদ্রে ভেসে বেড়ান। গভীর সমুদ্রে ট্রলারে দিক নির্ণয়ের জিপিআরএস সিস্টেম ও স্যাটেলাইট ফোন ছাড়াই অনিরাপদ অনিশ্চিত গন্তব্যে মৃত্যুমুখে পাঠায় মানবপাচারকারী চক্র।
দীর্ঘদিন সাগরে ভেসে থাকার ফলে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীরা খাবার পানি, শুকনো খাবার বা বেঁচে থাকার খাদ্যাভাবে ক্রমশ দুর্বল হয়ে ৭ দিনে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারা যান। সমুদ্রের নোনাজল ভেসে ঠান্ডা বাতাস, উত্তাল ঢেউ তাদের গ্রিসের উপকূলের দিকে যায়। পরে গ্রিসের উপকূল রক্ষীবাহিনী তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
]]>

২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·