বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে গত (৩১ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে ইমিগ্রেশন চত্বরে সাইন বোর্ড ঝুলাতে দেখা গেছে।
এদিকে পাসপোর্টধারী যাতায়াতে নানান শর্ত ও ভিসা প্রাপ্তির সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে ভিসা ফি অযৌতিক হারে বৃদ্ধি ও নতুন বছরে ইসিগ্রেশন প্রবেশ ফি পাসপোর্টধারী প্রতি ২০০ রুপি পর্যন্ত নির্ধারন ভ্রমনকারীদের উপর চাপ বৃদ্ধি হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দির্ঘ দিনের সৌহাদ্য,সম্প্রতী ও বাণিজ্য সম্পক্য রয়েছে। ভিসা জটিলতায় এ সব সম্পক্যে বিরুপ প্রভাব বাড়ছে। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে ভিসা ও বাণিজ্য সহজিকরনে ভারত সরকার আন্তরিক হবেন।
বেনাপোল বন্দরের সহকারি পরিচালক কাজী রতন জানান, ভারত ভ্রমনকারীদের এর আগে ভারত অংশে এ ধরনের কোন ভ্রমন কর পরিশোধ করতে হতো না। এটি ভারতের সিদ্ধান্ত হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষের করার কিছু নাই৷
তথ্য বলছে,নির্দেশনা অনুযায়ী, জিএসটি-সহ নির্ধারিত যাত্রী পরিষেবা ফি হিসেবে ভারতীয় ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ রুপি এবং তৃতীয় দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ৪০০ রুপি বা ১০ মার্কিন ডলার আদায় করা হচ্ছে।
তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। এছাড়া ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত সরকারি কিছু নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাকে এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কী বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী?
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত ও গতিশীল করতেই এই চার্জ চালু করা হয়েছে।
একইসাথে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা। যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামত (Vinimay) ওয়েবসাইট (https://vinimay.lpai.gov.in/login) অথবা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর বা ইমেল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে লগ ইন করে স্লট বুক করতে পারবেন। এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর এবং আইওএস স্টোর উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ করা যাবে। এছাড়াও, রেজিস্ট্রেশনের জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করার সুবিধাও থাকছে।
তবে, নতুন এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে ভারতগামী যাত্রী আব্দুর রহিমসহ একাধিক যাত্রী জানান, নতুন বছরে প্রথম দিনেই পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ট্যাক্স চালু হওয়ায় পাসপোর্ট যাত্রীদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে সর্বশেষ যাত্রীপ্রতি এক হাজার টাকা এবং পোর্ট ট্যাক্স ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে। তার ওপর ভারত সরকার নতুন করে ২০০ রুপি পোর্ট ট্যাক্স আরোপ করায় বিশেষ করে রোগাক্রান্ত-গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য এটি নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাসপোর্ট যাত্রী রোমানা বলেন, 'নতুন বছরের শুরুতে আমরা আশা করেছিলাম ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা নিরসন হবে এবং ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তার বদলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের ওপর ২০০ রুপি ফি আরোপ করায় হতাশা বেড়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে এই চার্জ কার্যকর হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকেই এখন অতিরিক্ত এই খরচ বহন করতে হচ্ছে।

১ সপ্তাহে আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·