গাইবান্ধা সদরের খারজানি চরে পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করে বালু থেকে খনিজ আলাদা করার কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান এভারলাস্ট মিনারেলস কোম্পানি লিমিটেড। প্রথম বছরে যেখানে মাত্র ১ শতাংশ ভারী খনিজ পাওয়া গিয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে গড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ৮ শতাংশে উন্নীত করা, যা অর্জিত হলে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জয়পুরহাটের ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালার্জির পরিচালক ড. আমিনুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্রের বালু থেকে জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গার্নেট-এই পাঁচটি প্রধান খনিজ পাওয়া যাচ্ছে।
জিরকন ব্যবহৃত হয় সিরামিক টাইলস ও রিফ্যাক্টরিজ নির্মাণে। রুটাইল লাগে রং, প্লাস্টিক, কসমেটিকস ও ওষুধ উৎপাদনে। ইলমেনাইট ব্যবহার হয় ওয়েল্ডিং রড ও টাইটানিয়াম তৈরিতে। ম্যাগনেটাইট ইস্পাত ও চুম্বক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ, আর গার্নেট ব্যবহৃত হয় সিরিঞ্জ ও কাগজ শিল্পে।
আরও পড়ুন: চাহিদা বাড়ায় তেলের সংকট, অতিরিক্ত না নেয়ার পরামর্শ জ্বালানিমন্ত্রীর
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১০ মিটার গভীরতায় প্রতি বর্গকিলোমিটার বালুচর থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ভারী খনিজ পাওয়া সম্ভব, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা। গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, এসব খনিজ এখন বিদেশ থেকে চড়া দামে আমদানি করতে হয়। দেশে উৎপাদন শুরু হলে সিরামিকসহ রফতানিমুখী শিল্পে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
২০২৪ সালে সরকার ২৮টি শর্তে এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আহরিত খনিজের ৪৩ শতাংশ পাবে সরকার এবং ৫৭ শতাংশ পাবে কোম্পানি।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আব্দুল হাই বলেন, বাণিজ্যিকভাবে এই খনিজ আহরণ শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ব্রহ্মপুত্রের চরে লুকিয়ে থাকা এই সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৬







Bengali (BD) ·
English (US) ·