বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরেজমিন ঢাকা-৭, ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসনের বেশকিছু কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভোটগ্রহণের প্রায় সব প্রস্তুতিই সেরে ফেলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
সেগুনবাগিচা হাইস্কুলে অবস্থিত ৯৩ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন। দুপুর আড়াইটায় সরঞ্জাম হাতে পাওয়ার পর বিকেল ৫টার মধ্যেই কক্ষগুলো গুছিয়ে ফেলেছি। ৫টি কক্ষ ও ৭টি বুথসহ গোপন কক্ষগুলো এখন ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
সব কটি কেন্দ্রের বাইরেই লক্ষ করা গেছে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গড়া তীব্র নিরাপত্তা বেষ্টনী। প্রিসাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, ব্যালট ও সরঞ্জামাদি সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, রাত ৮টার পর থেকে কেন্দ্র ও আশপাশের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ২০টির বেশি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি কেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা প্রার্থীদের এজেন্টদের মাঝেও নিরাপত্তার বিষয়ে স্বস্তি দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: ব্যালটের সিলসহ আটক দোকানি ‘জামাতকর্মী’, দাবি বিএনপি প্রার্থী এ্যানির
ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কিছু সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখা হলেও ভোটারদের মাঝে কোনো আতঙ্ক নেই। রাজধানীর চিরচেনা যানজট আজ উধাও; বিকেলের পর পথচারীদের আনাগোনা কমতে শুরু করেছে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমল ও বড় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও পাড়া-মহল্লার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানগুলো খোলা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উৎসাহ লক্ষ করা গেছে নতুন ভোটারদের মধ্যে। দীর্ঘ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু পরিবেশের ভোট হতে যাওয়ায় অনেক তরুণ আজকের রাতকে ‘চাঁদরাতের’ সঙ্গে তুলনা করছেন। ঢাকা-৯ আসনের তরুণ ভোটার নিয়াজ নাফি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছি। পরিবেশ এখন পর্যন্ত চমৎকার। সবার মধ্যে যে আনন্দ আর উত্তেজনা কাজ করছে, মনে হচ্ছে আজ যেন ঈদের আগের চাঁদরাত!’
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভয় দেয়া হয়েছে যে, ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের রায় দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এখন কেবল ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষা।

১ মাস আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·