মঙ্গলবার (৫ মে) এক নির্দেশনায় এই সুযোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ অনুপাত সীমা বাড়িয়ে ৮০:২০ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ মোট বিনিয়োগের ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট হিসেবে দিতে হবে ঋণ গ্রহীতাকে। যা আগে ছিল ৬০:৪০ শতাংশ।
ঋণ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহার একদিকে জ্বালনি ঝুঁকি কমাবে, অন্যদিকে এটি পরিবেশবান্ধব। ফলে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি কিনতে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ। জ্বালানি তেল ও গ্যাস চালিত যানবাহনের বর্তমান বাজার দর বিবেচনায় এটি সাশ্রয়ী হবে বলেও মত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ী এসব যানবাহন কিনতে উৎসাহ দিতে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে আমদানি পর্যায়ে। গত ৩রা মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎচালিত বাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির পর অন্যান্য কাজে ব্যবহারে বিদ্যুৎচালিত বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বাহনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রেখে অন্যান্য শুল্ক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়।
আর আরও পড়ুন: বিদ্যুৎচালিত স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দিলো এনবিআর
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করে এনবিআর। এতে বলা হয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেক্ট্রিক বাস আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর (এটি) এবং অগ্রিম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজে কিংবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অন্য কোনো সংস্থা শিক্ষার্থী পরিবহনের উদ্দেশ্যে এসব বাস আমদানি করলেও একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তবে এসব বাসের রঙ হতে হবে হলুদ এবং ‘স্কুল’, ‘কলেজ’ বা ‘স্টুডেন্ট বাস’ শব্দগুলো স্পষ্ট করে দৃশ্যমানভাবে লিখতে হবে।
এছাড়া, কোনো ধরনের শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই বাস আমদানির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এনবিআরে আবেদন করলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানিয়েছে এনবিআর।
এ সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ায় সড়কে যানজট কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং অভিভাবকদের পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিচালিত বাস আমদানিতেও শুল্ক-কর কমানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে গিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় ও যাতায়াত ব্যয় হ্রাস পাবে বলে মনে করছে এনবিআর।
]]>
১৮ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·