ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর বোয়ালিয়া থানার বড়কুঠি পদ্মাপাড় এলাকায়। পরদিন রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে বোয়ালিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্তর বাড়িও ওই একই এলাকায়।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী (২৩) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ও তার এক বন্ধু বড়কুঠি পদ্মাপাড়ে আয়োজিত ‘রাজশাহী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল’ দেখতে যান। সেখানে তার বন্ধু মোটরসাইকেল রাখতেই এক ব্যক্তি পার্কিংয়ের টিকিট দিতে আসেন। এ সময় তারা জানতে চান, কী কারণে গ্যারেজের টিকিট দেয়া হচ্ছে। তখন তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ অবস্থায় তারা ঝামেলা না করে চলে যেতে চাইলে আসামি মনিরুজ্জামান শান্ত তার প্যান্টের চেইন খুলে বাজে অঙ্গভঙ্গি ও ইঙ্গিত করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তোকে এখানেই ধর্ষণ করব। কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।’
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সামনেই ওই তরুণীকে আবারও কটূক্তি করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে যায়। এরপর অভিযুক্তদেরও থানায় ডাকা হয়। তখন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকসহ ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে থানায় যান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের হাহাকার, ঠেলে নেওয়া হচ্ছে পুলিশের গাড়ি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষেও তাকে আপত্তিকর কথা বলা হয়। তরুণী তখন মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি। পরে তাকে নিরাপদে থানা থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও চলে যান। এরপর রোববার সকালে ওই তরুণীকে থানায় ডেকে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। মামলায় মনিরুজ্জামান শান্ত, তার ভাই মো. শুভসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সদস্য সৈকত পারভেজ স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য গণমাধ্যমে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি।
আরও পড়ুন: রাবিতে শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ফুয়াদকে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড’
ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে সরস্বতী পূজার মণ্ডপে হামলার ঘটনায় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। শান্তসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা।
অভিযোগে বলা হয়েছিল, ফুদকিপাড়া এলাকার মন্নুজান স্কুল মাঠে সপ্তসতী ও আশীর্বাদ সংঘের উদ্যোগে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সনাতনী যুবকেরা গানবাজনার সঙ্গে নাচানাচি করছিল। তখন হামলাকারী যুবকেরা তাদের সঙ্গে এসে নাচানাচি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা অতর্কিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে এবং প্যান্ডেল ও সাউন্ডবক্স ভাঙচুর করে।
এই মামলার বাদী অশোক কুমার সাহা বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কোনোদিন যোগাযোগই করেননি। মামলাটি কী পর্যায়ে আছে সেটিও আমি জানি না।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মনিরুজ্জামান শান্তর মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সার্বিক বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আগের মামলার বিষয়ে আমি জানি না। তখন আমি ছিলাম না। এবারের মামলার বিষয়টি জানি। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
]]>
৬ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·