বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছেই, ব্যারেলপ্রতি পৌঁছাতে পারে ১৫০ ডলারে!

১ সপ্তাহে আগে
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘায়িত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলার কারণে যদি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকবে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬৭ ডলার বা ২.০৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৯৪ ডলার বা ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৭৬ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাক সংরক্ষণাগার এবং রফতানি রুটের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কম উৎপাদন করছে। এছাড়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদক কাতারও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।

 

আরও পড়ুন: জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম

 

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং তেহরানের প্রতিশোধের কারণে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারিক প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পঞ্চম দিনের মতো প্রায় স্থবির রয়েছে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থার মতে, কুয়েতের মুবারক আল কাবীরের কাছে একটি ট্যাঙ্কারের মাস্টার বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং ছোট একটি জাহাজকে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে।

 

জেপি মরগান এক নোটে জানিয়েছে, ইরান এখনও বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে না, তবে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরে প্রায় ৩২৯টি তেলবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে।

 

জেপি মরগান আরও উল্লেখ করেছে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং বিদ্যমান জ্বালানির দাম মার্কিন অভিযানের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইন এই অঞ্চলের মূল দেশ।

 

তাদের মতে, বেশিরভাগ তেলক্ষেত্র কয়েক দিনের মধ্যে পুনরায় চালু হতে পারবে এবং সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা যায়। তবে, বিশেষ করে ইরাকে, অপারেটরদের ধীরে ধীরে জলাধারের চাপ পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের লেকচারার জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেলের অর্ধেকও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম একটা সময়ে প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোকে আর পাহারা দিতে না পারায় এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

 

আরও পড়ুন: দেশে মজুত জ্বালানি দিয়ে কতদিন চলবে, জানালেন মন্ত্রী

 

হির্স বলেন, ‘তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে আমরা এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে দেখছি। হামলার প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’

 

ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে হির্স বলেন, ‘গ্যাসনির্ভর দেশগুলো এখন পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্ডারেও প্রভাব ফেলছে।’

 

হির্স সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়বে। এমনটা ঘটলে অভ্যন্তরীণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন