আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফুটবলের এই বিশ্ব আসর। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এই বিশ্বকাপে ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। তবে এফএসই এবং ইউরোকনজ্যুমারস গ্রুপের অভিযোগ, টিকিট বিক্রিতে নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছে ফিফা।
এক বিবৃতিতে এফএসই জানিয়েছে, ‘ইউরোকনজ্যুমারস এবং এফএসই ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ফিফা নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর বিশ্বকাপের টিকিটের অযৌক্তিক দাম, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফিফার এই শর্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’
এফএসই’র তথ্যমতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার সমান। এই টাকার অঙ্ক ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি। দামের এই বিশাল পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের সঙ্গে তুলনা করলে— সেখানে ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল মাত্র ৯৫ ইউরো।
আরও পড়ুন: হাঁটুর চোট কাটিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে এমবাপ্পে, জানালেন সব গুজব
ফিফার নিজস্ব দরপত্র নথিতে যেখানে গড় টিকিটের দাম ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪০৮ ডলার, বাস্তবে তা বহু আগেই সীমা অতিক্রম করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হয়েছে। একজন দর্শক একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪টি এবং পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।
উত্তর আমেরিকার আয়োজক কমিটি শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, টিকিটের দাম শুরু হবে মাত্র ২১ ডলার থেকে। তবে বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচের মতো তুলনামূলক কম আলোচিত ম্যাচের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬০ ডলারে। আর বড় দলগুলোর ম্যাচের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য ২০০ ডলার।
তবে ৬০ ডলারের যে সস্তা টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেটাও শুধু বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত। তা প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ। এফএসই বলছে, ‘সাধারণের জন্য সংরক্ষিত সেই টিকিটগুলো বিক্রির আগেই গায়েব হয়ে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে ভিয়েতনামে হামজা
তবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে ফিফার নিজস্ব পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের ক্যাটাগরি-৩ একটি টিকিটের দাম পুনর্বিক্রয় বাজারে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার! যেখানে মূল মূল্য ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ ডলার, সেখানে দামের এই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি প্রায় ৪১ গুণ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই টিকিটের মূল্য ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পুনর্বিক্রয় বাজারের ওপর বর্তমানে কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই, আর মেক্সিকোতে থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের অগ্নিমূল্যকে ‘চাহিদার কারণে দাম বাড়ার’ ফল হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বৈশিষ্ট্য অনুসারে তারা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করছে, যার অর্থ ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদার ভিত্তিতে টিকিটের দাম ওঠানামা করে।
তবে সমর্থকদের অভিযোগ, এই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই) জানিয়েছে, টিকিটের দাম ধাপে ধাপে হঠাৎ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, আর ক্রেতারা টিকিট কেনার শুরুতেই শেষ মূল্য জানার সুযোগ পান না।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আসলেই এই বিশ্বকাপের উন্মাদনা ও উৎসব কি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নাকি অন্য কারো জন্য?
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৬







Bengali (BD) ·
English (US) ·