বিশ্বকাপে দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে পাকিস্তান সরকার

৪ সপ্তাহ আগে
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকা নিয়ে ইসলামাবাদে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে পাকিস্তান।

ক্ষমতাকেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো দ্য নিউজকে নিশ্চিত করেছে যে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে ফেডারেল সরকার। আইসিসির বিরুদ্ধে 'স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি' ও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ইসলামাবাদে ক্ষোভ বাড়ছে।


বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার সুযোগ চাইলে আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তই ইসলামাবাদে গুরুতর উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


আরও পড়ুন: পিএসএলের নিলাম ১১ ফেব্রুয়ারি, যেসব নিয়ম মানতে হবে


একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র বলেন, 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে, তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুযায়ী সরকার পাকিস্তানকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি নাও দিতে পারে।'


তিনি আরও যোগ করেন, 'এটি শুধু ক্রিকেটের বিষয় নয়, এটি নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর আইসিসির সৎ-মায়ের মতো আচরণ পাকিস্তানকে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।'


সূত্রটি জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া প্রশাসন কোনো একক দেশের পছন্দ-অপছন্দের কাছে জিম্মি হতে পারে না। দ্য নিউজকে তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। একদিকে ভারত ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কথা বলেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছে না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে বৈশ্বিক খেলায় পরিণত করতে চায়, তবে এই বাছবিচারমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।'


এ বিষয়ে আগেই আইসিসির ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাকভি। তার মতে, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া আইসিসির নীতিতে উদ্বেগজনক অসঙ্গতির প্রতিফলন এবং এতে ন্যায়সংগততার চেতনা ক্ষুণ্ন হয়েছে।


তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পিসিবি ফেডারেল সরকারের নির্দেশই অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, 'পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের, এবং পিসিবি ওপরের নির্দেশ মানতে বাধ্য।'


আরও পড়ুন: মারা গেলেন বিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিন্দ্রা


এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও পিসিবি চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে—অংশগ্রহণ হোক বা প্রত্যাহার—তারা সেটির সঙ্গেই একমত থাকবেন।


ক্রিকেট বিশ্ব যখন গভীর নজরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নজিরবিহীন আলোড়ন তুলতে পারে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে শাসনব্যবস্থা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন