বিভাজন সৃষ্টি করলে ফায়দা পাবে স্বৈরাচারীরা: ইশরাক

৪ সপ্তাহ আগে
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা হলে এর ফায়দা পাবে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি। জাতীয় ঐক্য নষ্ট হলে আবারও দুঃশাসনের পথ সুগম হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের অ্যাডভোকেট মো. সানাউল্লাহ মিয়া হলে বৃহত্তর ঢাকা জাতীয়তাবাদী আইনজীবীর উদ্যোগে ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক বলেন, আমরা যদি একে অপরের প্রতি সম্মান নষ্ট করি, বিভাজন সৃষ্টি করি, তাহলে এর আল্টিমেট বেনিফিশিয়ারি কারা হবে সেটা আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে। তারা যদি আবার ফেরত আসে, তাহলে দেশের কী অবস্থা হবে, সেটাও মাথায় রাখতে হবে।


তিনি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে আইন ও আইনজীবীদের ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা, তাই তিনি দেশের সকল পর্যায়ের আইনজীবী ও আইনজীবী নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

আরও পড়ুন: যাদের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তারাই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চাইছে: ইশরাক


তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যদি আমাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে আপনাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে নিজেকে আরও এনহ্যান্স করতে চাই, যাতে সংসদে গিয়ে আইন প্রণয়নে জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি।


২৪-এর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আইন প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, তা বাস্তবায়নে সংসদে শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ না থাকায় নতুন কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিকে টার্গেট করছে। তাদের বলতে চাই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা এখনো অনুশোচনায় নেই। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে তা যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ হয় এবং ভোটের রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

 

আরও পড়ুন: বাবার মতোই জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা ইশরাকের


তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি একটি হত্যাকাণ্ডে আমাকে ও আমাদের শীর্ষ নেতাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপি ও সমমনা দলগুলো রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। জেল-জুলুম, গুম-খুনের শিকার হয়েছি, তবু জনগণের ইস্যুতে রাজপথ ছাড়িনি।


২৮ অক্টোবর ও গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর হরতাল-অবরোধ ও আন্দোলনের মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়, অথচ এখন কেউ কেউ সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে নেয়ার চেষ্টা করছে।


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে টার্গেট করার অভিযোগ করে ইশরাক হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই  তারেক রহমানকে টার্গেট করে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। এতে আমরা গভীরভাবে হতাশ।

 

আরও পড়ুন: পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করার প্রতিশ্রুতি ইশরাক হোসেনের


তিনি বলেন, আমরা সহাবস্থান চেয়েছি, উদারতা দেখিয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদারতার কারণেই তারা রাজনীতিতে ফিরেছিল। কিন্তু সেই উদারতার সম্মান তারা রক্ষা করছে না।


এ সময় উপস্থিত আইনজীবী ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে একটি সুযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ জনগণের প্রত্যাশার বাইরে কোনো কাজ আমার দ্বারা হবে না।


ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মহসীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন