থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ুতে ১১৮ আসনের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা ডিএমকে জোটকে ৭০ এবং এআইএডিএমকে-কে ৫১ আসনে নামিয়ে এনেছে, কিন্তু এই ফলাফল চলতি নির্বাচনী চক্রে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এর মহড়া হয়েছে, একে পরিমার্জন করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়: যখন ভক্তরা হয়ে উঠল শক্তি
বিজয় যা দিয়ে শুরু করেছিলেন তা ছিল বিশাল পরিসর। তামিলনাড়ু জুড়ে তার লক্ষ লক্ষ ভক্ত ‘রসিগার মণ্ডপ’-এ সংগঠিত হয়েছিল, সিনেমাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তিনি যা গড়ে তুলেছিলেন তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু।
এই ইউনিটগুলো চলচ্চিত্র প্রচারের গণ্ডি পেরিয়ে সুসংগঠিত জনকল্যাণমূলক কাজেও যুক্ত হয়েছিল। রক্তদান শিবির, ত্রাণকার্য, ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ ছিল না, এভাবে তারা সবসময় বিজয়ের পাশে তাদের উপস্থিতিকে নিশ্চিত করেছে।
এক সময় কোয়েম্বাটুরের মতো শহরগুলোতে বিজয়ের ফ্যান ক্লাবগুলোর সংখ্যা হাজারে পৌঁছে যায় এবং তারা সংগঠিত সেবামূলক ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে, তারা পরিবারগুলোর সাথে একটি সরাসরি, অরাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে। ফলে নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটারদের কাছে তারা গিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে একটা পরিচয় গড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়: আসল নির্বাচনের আগের নীরব নির্বাচন
২০২১ সালে, বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ না করেই সিস্টেমটি পরীক্ষা করেছিলেন।
ফ্যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কোনো দলীয় উদ্বোধন ছিল না। কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রচারণাও চালানো হয়নি। কিন্তু নেটওয়ার্কটি সক্রিয় করা হয়েছিল।
প্রায় ১৬৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ১১৫ জন জয়ী হয়েছিলেন।
এটি ছিল একটি কাঠামোগত যুগান্তকারী সাফল্য। এটি দেখিয়েছিল যে নেটওয়ার্কটি প্রার্থী বাছাই, বুথ ব্যবস্থাপনা এবং ভোট সংগ্রহের মতো কাজগুলো সামলাতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোটাররা কোনো দলীয় প্রতীক ছাড়াই তাদের সমর্থন করেছিলেন।
তৃতীয় পর্যায়: ভক্ত থেকে বাছাইকৃত কর্মী বাহিনী
২০২৬-এর প্রস্তুতিপর্বের উদ্দেশ্য আরও লোক নিয়োগ করা ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল সঠিক ব্যক্তিদের বেছে নেয়া।
টিভিকে দল কর্পোরেট ধাচের বাছাই প্রক্রিয়া চালু করেছিল। সাক্ষাৎকার, অতীত যাচাই, সুনির্দিষ্ট ভূমিকা। শুধুমাত্র ভক্তদের উৎসাহ, কাউকে দায়িত্বের জন্য যোগ্য করে তুলত না।
ওয়ার্ড ইন-চার্জ, বুথ এজেন্ট, নির্বাচনী এলাকার সমন্বয়কারীদের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বিজয়ের এই ‘আন্দোলনটি’ তার আবেগের বড় জায়গা ছিল বটে তবে তা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও অর্জন করেছিল।
চতুর্থ পর্যায়: যখন একটি প্রতীক সংকেতে পরিণত হলো
বাঁশির প্রতীকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যানার থেকে ঘরে ঘরে পৌঁছে গেল। নারীরা তাদের বাড়ির বাইরে বাঁশির আকৃতির কোলাম আঁকতে শুরু করলেন, যা পাড়াগুলোকে সমর্থনের এক দৃশ্যমান মানচিত্রে পরিণত করল। এটি অনলাইন এবং অফলাইনে ছড়িয়ে পড়ল, যার সমন্বয় করল সেইসব স্থানীয় ইউনিটগুলো, যারা একসময় চলচ্চিত্রের অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনা করত।
দেখে মনে হত সেটা খুবই প্রাণবন্ত। একটা নিয়মবদ্ধ।
পঞ্চম পর্যায়: প্রচারণার অন্তর্নিহিত নেটওয়ার্ক
দৃশ্যমান প্রচারণার আড়ালে ছিল একটি পূর্ব-নির্মিত ব্যবস্থা। বহু বছর ধরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো প্রচারণার পাইপলাইনে পরিণত হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা পতাকা, পরিবহন, লোকসমাগম এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের দায়িত্ব সামলেছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণকে সংগঠিত করার প্রক্রিয়াটি ছিল শ্রমসাধ্য, সময় নিয়ে তা করতে হয়েছে।
শীর্ষ পর্যায়ে, বিজয় নিয়ন্ত্রণের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছিলেন। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলো একটি ফিডব্যাক লুপ তৈরি করেছিল। বুথ-পর্যায়ের তথ্য ওপরের দিকে যেত। দুর্নীতি, জনকল্যাণ এবং তরুণদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বার্তাগুলো নিচের দিকে পৌঁছাত।
ষষ্ঠ পর্যায়: সেই পরিচয় যা সবকিছুর মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছিল
প্রতিটি পর্যায়ে, সমর্থকদের নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ছিল। তাদের প্রায়শই ‘অনিল’ বলে ডাকা হতো, যা তামিল রাজনৈতিক স্মৃতিতে প্রোথিত একটি শব্দ। ‘অনিল’ শব্দের অর্থ কাঠবিড়ালি।
২০১১ সালের তামিলনাড়ু নির্বাচনের সময়, যখন বিজয় এবং তার দল বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম, জে. জয়ললিতা এবং এআইএডিএমকে জোটকে সমর্থন করেছিল, তখন তিনি বা তার বাবা এস. এ. চন্দ্রশেখর রামায়ণের সেই কাঠবিড়ালির সঙ্গে এর তুলনা করেছিলেন, যেটি লঙ্কায় সেতু নির্মাণে সাহায্য করেছিল। ধারণাটি ছিল সহজ। ক্ষুদ্র অবদানকারীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে একটি বৃহত্তর বিজয় সম্ভব করে তুলতে পারে।
তবে বাঁধাও পেরোতে হয়েছে বিজয়কে। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলো অনলাইনে উপহাসের ঢঙে ‘অনিল’ নামটি ব্যবহার করতে শুরু করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নামটি স্থায়ী হয়ে যায় এবং বিজয়ের সমর্থকদের পরিচয়ের একটি সংক্ষিপ্ত নামে পরিণত হয়।
বিজয় থালাপাতির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি হয়ত এখন সময়ের ব্যাপার। যদি তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন তাহলে পরবর্তী চ্যালেঞ্জকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন তাও নিশ্চয়ই ভালোই বুঝবেন থালাপাতি।
]]>
১ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·