বিকল্প উৎসে জ্বালানি আমদানি বাড়লেও স্বস্তি নেই বাজারে

১ সপ্তাহে আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হলেও মার্চ মাসেই কাতার, আরব আমিরাত ও ওমানের পাশাপাশি বিকল্প উৎস হিসেবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, এমনকি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৬টি জাহাজভর্তি এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। ফলে বাজারে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরও কাতার থেকে এলএনজিবাহী চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। পুরো ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩৬টি জাহাজের মধ্যে ৩০টি জাহাজ আমদানিকৃত জ্বালানি খালাস করে বন্দর ছেড়েছে। পাশাপাশি তিনটি জাহাজ আংশিক খালাস করেছে এবং আরও তিনটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, সবচেয়ে বেশি এসেছে এলএনজি ও এলপিজি। এর বাইরে ক্রুড অয়েল, গ্যাস অয়েল এবং এইচএসএফওসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি এসব জাহাজে ছিল।

 

বন্দরে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি করে জাহাজে এলএনজি ও এলপিজি আনা হয়েছে। এছাড়া ডিজেলের কাঁচামাল গ্যাস অয়েলবাহী ৮টি, হাইস্পিড ফার্নেস অয়েলবাহী ৪টি, লুব্রিকেন্টের কাঁচামাল বেস অয়েলবাহী ২টি এবং পেট্রোল ও অকটেনের কাঁচামাল কনডেনসেটবাহী ১টি জাহাজ এসেছে। পাশাপাশি ক্রুড অয়েল ও প্লাস্টিক অয়েলবাহী আরও দুটি জাহাজও বন্দরে ভিড়েছে।

 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের দাবি, দেশের চাহিদা বিবেচনায় কোনো ধরনের জটিলতা বা বিলম্ব ছাড়াই এসব জ্বালানি খালাস করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, এলপিজি ও এলএনজিসহ জ্বালানি পণ্য দ্রুত খালাসের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো সংকট তৈরি না হয়।

 

আরও পড়ুন: খুপরি-ভাঙারি দেকানে মিলছে জ্বালানি তেল

 

বাংলাদেশ আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে জ্বালানি সংগ্রহ করতো। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এতে বাধ্য হয়ে শুরু হয় বিকল্প দেশের সন্ধান।

 

ফলে এই অস্থিরতার মধ্যেও বিকল্প দেশ থেকে এলপিজি, এলএনজি ও তেল সংগ্রহ করে বাংলাদেশ এরইমধ্যে সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। বিশেষ করে একক দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর থেকে এলপিজি, হাইস্পিড ফার্নেস অয়েল ও গ্যাস অয়েল নিয়ে ৯টি জাহাজ এসেছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৬টি, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ৩টি করে এবং যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ ও অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি করে জাহাজ জ্বালানি নিয়ে দেশে পৌঁছেছে।

 

এখন চ্যালেঞ্জ হলো আমদানিকৃত এসব জ্বালানি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা। চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সাধারণত ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রাখা হয়। এর পাশাপাশি টার্মিনাল, ডিপো, ডিলার ও মাঠপর্যায়ে আরও অন্তত ১৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকে, যা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন