জানা গেছে, বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ও তৈন রেঞ্জের মাংগু মৌজার ব্যাঙ ঝিড়ি, পামিয়া ম্রো পাড়া, নামচাক পাড়া, আদুই পাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের বনভূমি ছিল জীববৈচিত্র্যের এক উর্বর ভান্ডার। শত শত প্রজাতির বৃক্ষ, বন্যপ্রাণী আর পাখির কোলাহলে মুখর ছিল পুরো এলাকা। কিন্তু একের পর এক বৃক্ষ নিধনের ফলে উজাড় হয়ে গেছে শতবর্ষী এসব পাড়া বন। এখন সেখানে পড়ে আছে কাটা গাছের গুঁড়ি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ডালপালা আর ধ্বংসস্তূপের করুণ চিহ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে সংঘবদ্ধ বনখেকো চক্র দিনের পর দিন নির্বিচারে উজাড় করে চলেছে এই বনাঞ্চল। শুধু আলীকদম নয় জেলার, থানচি, রুমা, রোয়াংছড়িসহ আশপাশের বনাঞ্চলেরও একই চিত্র। নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরুপ প্রভাব। কমে যাচ্ছে বৃষ্টিপাত, শুকিয়ে যাচ্ছে পানির উৎস, দেখা দিচ্ছে তীব্র পানির সংকট।
আদুই পাড়ার কার্বারী কামপ্লাত ম্রো বলেন, ‘থানচি -আলীকদম সড়কের সাড়ে ২৩ কিলো আর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাংগু মৌজা। সেখানে পামিয়া ম্রো পাড়া, তন্তুই পাড়া নামচাক পাড়া, কাকই পাড়া, আদুই পাড়াসহ হাজার মানুষের ম্রো জাতিগোষ্ঠী বসবাস। তাদের খাওয়ার প্রধান পানির উৎস সেই ব্যাঙঝিড়ি। অথচ ওই ঝিড়িতে পানি দূরের কথা প্রায় ২শ’ একর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে এই বন উজাড় কর্মযজ্ঞ। এছাড়া রুপসী পাড়া ইউনিয়নের আরও কয়েকটি পাড়ার মানুষও একই পানির উৎস ব্যবহার করত।বন উজাড় ও ঝিরির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন মারাত্মক পানির সংকট দেখা দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: বান্দরবানে অপহৃত ৬ রাবার শ্রমিক সেনা অভিযানে উদ্ধার
নামচাক ম্রো পাড়ার মেন রাও ম্রো বলেন, ‘আগে এই বনে হরিণ, ভালুক, বন্য শূকর ছিল। এখন বন নেই, প্রাণীও নেই। গত দুবছর ধরে শুধু গাছ কেটে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান চ্যাপ্টারের সভাপতি জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, ‘বনবিভাগের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই দুইবছর ধরে অবৈধভাবে বন উজাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ কল্পে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে অবশ্যই অবৈধ কাঠপাচার রোধ করতে হবে, এই কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
এবিষয়ে লামা তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন বিভাগের কার্যক্রম নেই, তবে অবৈধ কাঠ পাচার হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য আলিকদম উপজেলার তৈন রেন্জ ও চৈক্ষ্যং রেন্জে ৫ হাজার ৭০০ একর বনভূমি রয়েছে।

৩ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·