বাণিজ্যমেলায় চমক দেখাচ্ছে কয়েদিদের পণ্য, দর্শনার্থীদের ভিড়

৫ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ কারা অধিদফতরের স্টল। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েদিদের তৈরি হস্তশিল্প ও ঘর সাজানোর সরঞ্জাম ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গুণগত মান এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে অন্য সব স্টলের ভিড় ছাড়িয়ে যাচ্ছে কারা স্টলে।

মেলায় কারা অধিদফতরের স্টলে অত্যন্ত নিপুণ কারুকাজের বিপুল পণ্যসম্ভার সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- তৈরি আসবাবপত্র, কাঠের শোপিস, চেয়ার-টেবিল, খাট, নকশিকাঁথা, হস্তশিল্প, পোশাক, ব্যাগ, জুতা, বেল্ট, পাটজাত পণ্য, ফুলদানি, কিচেন আইটেমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। বিশেষ করে কাঠের তৈরি ফার্নিচার ও নকশিকাঁথা ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করছে।


কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বন্দিরা এই মানসম্মত পণ্যগুলো তৈরি করেন।


মেলায় আসা এক দর্শনার্থী বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এত সুন্দর ও টেকসই পণ্য কয়েদিরা তৈরি করেছে জেনে সত্যিই অবাক হয়েছি। এসব পণ্য কিনে তাদের নতুন জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, এটাই বড় কথা।’


আরও পড়ুন: দিন যত যাচ্ছে বাণিজ্য মেলায় বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থী


কারা কর্মকর্তারা জানান, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি মানবিক উদ্যোগ। স্টলে কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, 'কয়েদিদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির অর্থের একটি অংশ তাদের নিজস্ব নামে খোলা হিসাবে জমা হয়। এর ফলে তারা মুক্তির পর সংগৃহীত অর্থ নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারে। এই উদ্যোগ অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং কয়েদিদের আত্মনির্ভরশীল মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।'


স্টলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কয়েদিদের তৈরি পণ্যের মান দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো। ক্রেতারাও কম দামে উন্নতমানের পণ্য কিনতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।


সব মিলিয়ে ৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কারা অধিদপ্তরের এই স্টলটি সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন