বাচ্চা কান্না করলে কী দোয়া পড়তে হয়

৫ দিন আগে
বাচ্চাদের কান্না একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অস্বাভাবিক কান্না অস্বস্তিকর। অনেক সময় দেখা যায়, সুস্থ-সবল বাচ্ছা হঠাৎ করে রাতে অস্থির হয়ে উঠছে, ঘুমের মধ্যে চমকে উঠছে কিংবা দীর্ঘক্ষণ ধরে কেঁদেই যাচ্ছে।

এই সমস্যার আধুনিক কারণ যেমন আচে, তেমনি পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এর অদৃশ্যগত দিকও আলোচিত হয়েছে।

 

শিশুদের সুরক্ষায় যে দোয়া ও জিকিরের ঢাল প্রয়োজন, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা তা দিতে ভুলে যান। ফলে শিশুরা শয়তানের কুপ্রভাবের (আসর) শিকার হয়।

 

শিশু ভয় পেয়ে কাঁদলে কান্না থামানোর জন্য জন্য এ দোয়াটি পড়ে শিশুর শরীরে ফুঁ দিন:

 

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ (উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিনি ওয়া আঁইয়াহদুরুন।)

 

অর্থ: আল্লাহর পূর্ণ কলেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে শয়তানের উপস্থিতি থেকে।

 

আরও পড়ুন: মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ৩ আমল
 

আমর ইবনে শুয়াইব তার বাবার সূত্রে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুমের মধ্যে ভয় পায় সে যেন উপরোক্ত দোয়া পড়ে। এতে শয়তানের কুমন্ত্রণা তার ক্ষতি করতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তার সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে বড়দের এই দোয়া শিখিয়ে দিতেন আর ছোটদের গলায় এই দোয়া কাগজে লিখে ঝুলিয়ে দিতেন। (আবু দাউদ)

 

শিশুদের বদনজর, জাদু ও শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে নিয়মিত এই দোয়াটি পড়েও শিশুর শরীরে ফুঁ দিতে পারেন:

 

أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ (উচ্চারণ: উইজুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতনিউঁ ওয়া হাম্মাতিউঁ ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।)

 

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের ওসিলায় প্রত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক জন্তু থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর নজর থেকে আল্লাহর কাছে তোমার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

 

নবীজি (সা.) তার দুই নাতি হাসান ও হোসাইনের জন্য দোয়াটি পড়তেন। (বুখারি)

 

এ ছাড়া সকাল-সন্ধ্যা তিন কুল অর্থাৎ সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস ৩বার করে পড়ে শিশুর গায়ে ফুঁ দিন। 

 

আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) বলেন, রসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, 

 

সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস ৩বার করে পড়ুন, এ আমল প্রতিটি ক্ষতিকর জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)

 

শিশু যদি দীর্ঘক্ষণ ধরে কাঁদতে থাকে এবং কোনো শারীরিক রোগ ধরা না পড়ে, তবে বুঝতে হবে সে বদনজরের শিকার হতে পারে।

 

সন্ধ্যার সময় সতর্ক থাকা

 

সন্ধ্যার সময় শিশুদের অহেতুক কান্নার অন্যতম কারণ হলো-- ঘরের বাইরে রাখা। হাদিসে এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, 

 

যখন রাত শুরু হয় অথবা তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও, তখন তোমাদের শিশুদের ঘরের ভেতর আটকে রাখো। কারণ এই সময়ে শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। (বুখারি, হাদিস: ৩৩০৪)

 

রাতের প্রথম প্রহর পার হয়ে গেলে শিশুদের ছাড় দেয়া যেতে পারে, তবে ঘরের দরজা আল্লাহর নাম নিয়ে বন্ধ করতে হবে। (মুসলিম, হাদিস: ২০১২)

 

আরো পড়ুন: পবিত্র কোরআনে দেনমোহরের আলোচনা

 

আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি যদি সুন্নাহসম্মত এই আমলগুলো করা হয়, তবে ইনশাল্লাহ শিশুরা অনিদ্রা, অহেতুক ভয় ও কান্নার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন