রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার আঙরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শুকুর মৃধা উপজেলার ডাবরা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে আঙরা এলাকায় একটি মাছের ঘেরে চুরির অভিযোগে শুকুর মৃধাকে আটক করা হয়। ঘের মালিক শোলাবাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত মুন্সীর দাবি, তার ছেলে রোমান মুন্সী (২৬) মাছ চুরির সময় শুকুরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
লিয়াকত মুন্সীর ভাষ্যমতে, এ সময় শুকুরের সহযোগী দিনো মোল্লা রোমানকে আঘাত করে শুকুরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দিনো পালিয়ে যান এবং বিক্ষুব্ধ জনতা শুকুর মৃধাকে গণপিটুনি দেয়।
তবে শুকুর মৃধার পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগ তুলে তার ওপর পৈশাচিক মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়েছে। একপর্যায়ে তার চোখে গুরুতর আঘাত করা হলে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শুকুর মৃধার পুত্রবধূ নিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি তিনি অপরাধ করে থাকেন, তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে অমানবিকভাবে পিটিয়ে চোখ তুলে নেওয়া বা হাড় ভেঙে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই পৈশাচিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।
আরও পড়ুন: সিআইডির এসআই পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
এদিকে ঘটনার পর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঘের মালিক লিয়াকত মুন্সীসহ স্থানীয় কিছু মৎস্যচাষী এলাকায় মিছিল করেন। তাদের দাবি, এলাকায় চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তারা অতিষ্ঠ। তারা চুরিমুক্ত ঘের ও জানমালের নিরাপত্তা চান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, 'এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

৬ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·