বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা, মরদেহ পাঠানো হলো হাসপাতালে

৮ ঘন্টা আগে

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করা হবে, না সৎকার হবে, এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে মোল্লাহাট থানার পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ধর্মীয় পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়া ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও মাতা রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। প্রায় ২১ বছর আগে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কানু এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরবর্তী সময়ে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেঁতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে আবদুর রহমান (৯) নামের একটি ছেলে রয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তাঁর মা রিতা রানী পোদ্দার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে গতকাল দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালীমন্দির–সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দুধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য শ্মশানের চিতায় তোলা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে আবদুর রহমান প্রতিবাদ জানান। তাঁরা ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ-প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত ব্যক্তির মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তাঁর ছেলে আগে হিন্দুধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং সেই বিবেচনায় দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি তাঁর ছেলের পুনরায় হিন্দুধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং এ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, ‘ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁর স্ত্রী-সন্তান প্রশ্ন তুলেছেন, যার কারণে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল–বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ পড়ুন