বাকেরগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ

৪ দিন আগে
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইসলামী আন্দোলন নেতা মো. হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, চাল চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই হামলার নাটক সাজিয়েছেন চেয়ারম্যান।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মো. হুমায়ুন কবির বরিশাল জেলা ইসলামী আন্দোলনের সদস্য পদে রয়েছেন।

 

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানান, হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া সাধারণভাবে চলাফেরা করেন। এই সুযোগ নিয়ে জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মোসাব্বিরের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নয়ন খান, যুবদল নেতা জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলাদার, এনামুল এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম সিকদারসহ বেশ কয়েকজন অংশ নেন।

 

আরও পড়ুন: দ্বন্দ্ব মিটিয়ে বরিশালের ছয় রুটে বাস চলাচল শুরু

 

হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপি নেতাদের প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অন্যথায় এর পরিণতি ভালো হবে না।’

 

হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, নিয়ামতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৫০০ কেজি চাল চুরির অভিযোগ রয়েছে। চাল চুরির সময় স্থানীয় জনতার হাতে চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ হন। মূলত এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যই ইউপি চেয়ারম্যান তার ওপর হামলার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

 

উল্লেখ্য, এর আগেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদের ১১ জন সদস্য অনাস্থা জানিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ওই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছিল। যার অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়।

 

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা সময় সংবাদকে জানান, ‘এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন