নিত্যদিনের জীবনে পানি সংকটে চরম কষ্টে আছেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা তহুরা বেগম। রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এবং খাবার পানি; সবকিছুর জন্যই তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পানির ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। পানির অভাবে ভাত রান্না হয় না। বিদ্যুৎ থাকে না ঠিকমতো। পুকুরের নোংরা পানি দিয়ে কাপড় ধুই, খুব কষ্টে দিন কাটছে।
এমন জীবনযাপন এখন রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক পরিবারের বাস্তবতা। সেচনির্ভর বোরো চাষে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। লোডশেডিং বাড়ার কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, পানির স্তর অনেক গভীরে নেমে গেছে, ফলে সেখান থেকে পানি উত্তোলন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার বিদ্যুৎ না থাকায় শ্যালো মেশিন চালাতে জ্বালানি তেলের খরচও বেড়ে গেছে। তাদের একজন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে পুকুর বা অন্য উৎস থেকে পানি তুলতে হয়, এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। জমিতে পানি দিতে না পারায় ধান শুকিয়ে লাল হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাওরাঞ্চলে ত্রিমুখী সংকট, ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় চাষিরা
রাজশাহীর মোট ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৬১১ হেক্টর জমি এখন অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা চরম সেচ সংকটে ভুগছেন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, বোরো ধানের পাশাপাশি কম সেচে উৎপাদন সম্ভব এমন ফসলের দিকে কৃষকদের আগ্রহী করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ সংকট কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার খাল খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারে জোর দিতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ধানের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা লাভবান হন এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা যায়।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
]]>
৬ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·