বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, এ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার এই নগদ অর্থ ও আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছে। ডব্লিউএফপির নিজস্ব ট্রাস্ট ফান্ড এবং ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সহায়তা দফতর ‘ইসিএইচও’-এর অর্থায়নে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডব্লিউএফপির ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ বা আগাম প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির আওতায় নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া পূর্বাভাস ও নির্দিষ্ট সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে এই মানবিক সহায়তা দেয়া হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এমন আশঙ্কায় গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে প্রথমবারের মতো এই অর্থ বিতরণ শুরু হয়। ঝুঁকিতে থাকা প্রতিটি পরিবারকে সরাসরি ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।
এর বাইরেও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী আরও ৪ হাজার ৪০০ পরিবারকে অতিরিক্ত নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলবায়ুজনিত আকস্মিক বন্যার মতো দুর্যোগে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ডব্লিউএফপির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
এই অর্থ সহায়তার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো বন্যার পানি বাড়ার আগেই খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে রাখতে পারবে। পাশাপাশি তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা সুরক্ষিত করার সুযোগ পাবে। সাধারণত দুর্যোগ আঘাত হানার পর যে ধরনের সহায়তা দেয়া হয়, তার চেয়ে এই আগাম উদ্যোগ জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করে এই সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সিমোন পার্চমেন্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জলবায়ুজনিত দুর্যোগগুলো যেহেতু আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন এবং ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, তাই এর মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। এই আগাম পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবারগুলো আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারে। তারা খাবার মজুত করা থেকে শুরু করে সম্পদ রক্ষা করা বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। এটি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রয়োজনীয় সময় ও সম্পদ দেয়, জীবিকা রক্ষা করে এবং দুর্যোগের প্রভাব কমিয়ে আনে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০২৪ সালের বিশ্ব ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, দুর্যোগের ঝুঁকির দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সহায়তায় ২০১৭ সাল থেকে দেশে এই আগাম প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে ডব্লিউএফপি।
বৈশ্বিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুর্যোগের আগে অর্থ বিনিয়োগ করলে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যায়। ডব্লিউএফপি এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম পদক্ষেপে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে তা পরবর্তীতে প্রায় ৭ ডলার সমমূল্যের ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করে।
]]>
৪ দিন আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·