গত বছরের ২৫ জুন রাতে সেলের ছাদ ফুঁটো করে দেয়াল টপকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুর্ধর্ষ চার কয়েদি পালানোর পর নজরে আসে বগুড়া কারাগারের নিরাপত্তা ত্রুটির ব্যাপারটি।
জেল পালানোর চার কয়েদি গ্রেফতার হওয়ার পর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।
জানা যায়, এরইমধ্যে পাঁচ সদস্যর ওই তদন্ত কমিটি জেল পালানো ৪ কয়েদি ও ততৎকালীন ১০ কারারক্ষী, দুজন ডেপুটি জেলার ও জেল সুপারের জবানবন্দির দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাশের সেলে থাকা জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে জেল পালানোর ধারণা পান কয়েদিরা।
আরও পড়ুন: বগুড়া কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক সময় সংবাদকে বলেন, ‘জেলখানাটা একটা কনজাস্টেড এলাকায় রয়েছে। তাই আমরা চেয়েছি, জেলখানাটি শহরের বাইরে দিলে ভালো হয়।’
বগুড়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. ফারজানা আকতার বলেন, ‘বগুড়ার সব কিছুই কনজাস্টেড এলাকায়। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চিন্তা করবে।’
এরইমধ্যে কয়েদি পালানোর সময় দায়িত্বে থাকা বগুড়া কারাগারে তৎকালীন জেলার ফরিদুর রেজা রুবেলকে তিরস্কারের মতো লঘু দণ্ডে ছাড় দিয়েছে কর্তৃপক্ষ আর জেল সুপার আনোয়ার হোসনকে দায় থেকে দেয়া হয়েছে অব্যাহতি। তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে কারাবন্দিদের সঙ্গে পরিবারের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির দেয়া সুপারিশ বাস্তবয়নের কাজ চলছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বলেন, আগামী অর্থবছরে একটা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৮৮৩ সালে বগুড়া কারাগার তৈরি করা হয়। জেল থেকে কয়েদি পালানোর ঘটনায় ২০ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
]]>