বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি কর্তব্য শেষ হবে না। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মুক্তভাবে কথা বলা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান। আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।’
তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার এরইমধ্যে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: স্নাতক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষাঙ্গনে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ও জুতা দেবে সরকার।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে ব্রিটেনে থাকে, আমাকেও রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। তাদের স্কুল দেখে কষ্ট হতো। আমার দেশের শিক্ষার্থীরাও যেন সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করছি।’
নারীদের অবজ্ঞা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের প্রস্তাব অনুযায়ী যৌথ কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষ বসে নিশ্চয়ই এই সমস্যার সমাধান করতে পারব।’ ঢাকা শহরের পানির স্তর নেমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে যেন পরবর্তী প্রজন্ম এর সুফল পায়।
বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ও গন্তব্য এক–সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ। আমরা দ্বিমত পোষণ করব কেবল গঠনমূলক আলোচনার জন্য। দেশের স্বার্থে যে কোনো বিল বা নীতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসতে সরকার প্রস্তুত। বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।’
আরও পড়ুন: বাধ্য হয়ে অনেক দিন বিদেশে থাকতে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার পরিচালনার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় অনেক আরামের, কিন্তু মোটেও তা নয়। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় তপ্ত আগুনের হিট আসছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে ইচ্ছা করলেই অনেক জনপ্রিয় (পপুলার) কথা বলতে পারি, কিন্তু এই চেয়ার আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় জনপ্রিয় নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
অতীতের ১৭৩ দিনের হরতাল ও সংসদ ব্যর্থ করার রাজনীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই সংসদের সফলতা মানেই ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আসুন, আমরা কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে না চাই। এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’
আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শেষ করেন।

৫ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·