‘ফুয়েল পাস অ্যাপে বিড়ম্বনা’, ‘কঠিন চাপের মুখে মধ্যবিত্ত’

১ দিন আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

 

‘মন্দা’র কবলে বৈশাখী বাণিজ্য - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার ছাপ এবারের পহেলা বৈশাখ উৎসব বাণিজ্যে। সীমিত আয়ের বিপরীতে জিনিসপত্রের বাড়তি দাম কেনাকাটায় কিছুটা মন্দাভাব নিয়ে এসেছে। বৈশাখী বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম এবং কেনাকাটায় দেখা গেছে ভাটার টান। উৎসবের রং থাকলেও বাজারজুড়ে অনুপস্থিত সেই প্রত্যাশিত প্রাণচাঞ্চল্য, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেখছেন অর্থনৈতিক  চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে।

 

 


রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, আজিজ সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক এবং মিরপুর ও উত্তরার বিভিন্ন শপিং জোন ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, দোকানে ভিড় থাকলেও প্রকৃত ক্রেতার সংখ্যা কম। অনেকেই ঘুরে দেখছে, ছবি তুলছে, কিন্তু কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ব্যয় সংযমের প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।


কঠিন চাপের মুখে মধ্যবিত্ত - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই মন্দায় আক্রান্ত। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এ মন্দা আরও প্রকট হয়েছে। এতে একদিকে ভোক্তার আয় কমেছে, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পরিবহণ খচরসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে ভোক্তা।


 

 

 

বিশেষ করে মধ্যবিত্তের অবস্থা এখন সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। বিভিন্ন খাতে খরচ কমিয়ে বাধ্য হয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান কমাতে হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ানো হলেও ভোক্তার ওপর চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামীতে এ সংকট কোন দিকে মোড় নেবে তা নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর।

 

ইলিশ উৎপাদন দুই বছরের ব্যবধানে কমেছে ১২ শতাংশ - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান শিরোনাম এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে দেশে কমছে ইলিশ উৎপাদন। দুই বছরের ব্যবধানে এ মাছের উৎপাদন ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে, পরিমাণের হিসাবে যেটি ৭১ হাজার টনের বেশি।


 

 


দুই দশকের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার টনের বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। এরপর টানা দুই বছরে সেটি কমে গত অর্থবছরে পাঁচ লাখ টনে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অতিরিক্ত ও বেআইনি আহরণ, ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হওয়া, কারেন্ট জাল ব্যবহার, নদীতে চর, দূষণসহ সাগরে মৎস্য আহরণের নিষিদ্ধ সময়ের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ ব্যবধানের কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে।

 

সংকুচিত হচ্ছে লোকসংস্কৃতির চর্চা - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সিলেটের বিশ্বনাথের ইব্রাহিম শাহর মাজার। প্রায় শত বছর ধরে মাজারের পাশে বাউলগানের আয়োজন করা হয়। এ বছরও শুরু হয় গানের আসর। হঠাৎ শতাধিক লোক মঞ্চে এসে হামলা চালায়। বাদ্যযন্ত্র, শব্দযন্ত্র ও দর্শকদের চেয়ার ভাঙচুর করে। গত ২২ মার্চ রাতের এ হামলায় কয়েক মিনিটের মধ্যে পণ্ড হয়ে যায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী গানের আসর। ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয় হামলাকারীরা।

 

 

 

বিশ্বনাথের এই চিত্র এখন আর শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির আয়োজন ঘিরে অনেকটা নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামবাংলার লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এতে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে অনেক উৎসব। কমছে সাংস্কৃতিক আয়োজন।


সংকটে শ্রমবাজার, ফেরত আসছে বাংলাদেশিরা - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইতালি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল ৩০ বাংলাদেশিকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ফেরত পাঠানোর কথা। ইতালি সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে। গতকাল সোমবার ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও ইতালি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

 

অবৈধ অভিবাসন, অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ, ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু দেশের ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আবার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের কারণেও বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি হয়েছে ভিসা জটিলতা। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মানব পাচারের ঘটনাও ঘটছে।


ভয়ংকর সন্ত্রাসে ঘুম হারাম মোহাম্মদপুরবাসীর - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর। এলাকাটির নাম শুনলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন। কমবেশি সবাই জানেন, এখানে অপরাধের শেষ নেই। কিন্তু এ অঞ্চল ঘিরে অপরাধের যে সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে; এখানকার সন্ত্রাসীরা যে কী পরিমাণ বেপরোয়া ও নিষ্ঠুর, আর এর মাত্রা যে কতটা ভয়ংকর-তা প্রকাশেরও অতীত।


 

 


রীতিমতো অপরাধের ‘হটস্পট’ এই মোহাম্মদপুর। দলে দলে গ্রুপে গ্রুপে কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী-অপরাধীদের স্বঘোষিত অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে এলাকটি। একেক গ্রুপের একেক ‘গডফাদার’ আর বাহাার নাম! তারা প্রকাশ্যে জনমানুষের সামনে, সবকিছুকে তুচ্ছ করে যেকোনো ধরনের অপরাধ ঘটিয়ে চলছে বাধাহীনভাবে।


ফুয়েল পাস অ্যাপে বিড়ম্বনা - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ফুয়েল পাস চালু করেছে সরকার। ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হয় এই পাস। দুই পাম্পে শুরুতে পাইলটিং ভিত্তিতে এটি চালু করলেও এখন ঢাকার ৭টি পাম্পে এই পাসের মাধ্যমে তেল কেনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পুরো প্রক্রিয়া সহজ করতে এই ব্যবস্থা নিলেও ভোগান্তি বেড়েছে ফুয়েল পাসে।

 

 


সাতটি পাম্পে পাস বাধ্যতামূলক হলেও পাস ছাড়াই নেয়া যাচ্ছে তেল। রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। রেজিস্ট্রেশন করলেও কিউআর কোড কাজ করছে না। কেউ কেউ জানেনই না ফুয়েল পাস কী। সোমবার পাস চালু করা পাম্পগুলোর মধ্যে একাধিক পাম্পে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে।

 

ব্যাগেজ চক্রের কবজায় বিমানের কুয়েত স্টেশন - দৈনিক যুগান্তরের শেষের পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যাগেজের আড়ালে রাজস্ব লুটের মহোৎসব চলছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে। কুয়েতের স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে কিছু কিছু যাত্রীকে শত শত কেজি অতিরিক্ত মালামাল বহনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এর ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। লাভবান হচ্ছেন ওই অসাধু কর্মকর্তারা। আবার ওজন কম দেখিয়ে লোড শিট বিকৃতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ছে ফ্লাইটের নিরাপত্তা।


 

 


সম্প্রতি কুয়েত থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটে নিরাপত্তা বিভাগের ঝটিকা তদন্তে এমন অভিনব দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তদন্তে ১৪ জন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজ পাওয়া গেছে ১২ জনের। যাদের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি ফি আদায় হয়নি বা রসিদও ইস্যু হয়নি। বিমানের কুয়েত স্টেশনে সিন্ডিকেট করে এমন দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে বলে জানা যায়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন