কনিফা হলো এমন একটি সংস্থা, যারা বিশ্বের বিভিন্ন অস্বীকৃত দেশ, অঞ্চল বা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। ফিফার মতো কনিফারও নিজস্ব বিশ্বকাপ রয়েছে, যা এ বছর বা আগামী বছরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এটি তুলনামূলক ছোট পরিসরের, কম প্রচারণা এবং কোনো তারকা খেলোয়াড় নেই।
কনিফার আসন্ন ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে মাত্র ছয়টি দল অংশ নেবে, যা ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহ ধরে চলবে। দলগুলো হলো—
গ্রিনল্যান্ড জাতীয় দল: বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকায় হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন। ১৯৮০ সালে দলটি গঠিত হয় এবং এরপর থেকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অনিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছে। ২০২৪ সালে তারা কনকাকাফে সদস্যপদের আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে তারা এখনো ফিফার সদস্য নয়, যদিও তাদের নিজস্ব ফুটবল সংস্থা ও লিগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর অবিশ্বাস্য ফিটনেসের রহস্য ফাঁস
তুর্কি সাইপ্রিয়ট জাতীয় দল: এই দলটি উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে, যা কেবল তুরস্ক দ্বারা স্বীকৃত। ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাস উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়ে যায়, দক্ষিণে গ্রিক সাইপ্রিয়ট এবং উত্তরে তুর্কি সাইপ্রিয়টরা বসবাস করে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও তারা নিজেদের পরিচয় ধরে রেখেছে।
পাদানিয়া ফুটবল দল: ইতালির উত্তরাঞ্চলের পো ভ্যালি অঞ্চল থেকে এই দলের উৎপত্তি। ১৯৯০-এর দশকে সেখানে একটি স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়, যা ১৯৯৬ সালে ভেনিসে চূড়ান্ত রূপ পায়। যদিও সেই আন্দোলন টেকেনি, দলটি এখনো টিকে আছে এবং কনিফার অংশ। তারা ২০১৫ ও ২০১৭ সালে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে।
রায়েতিয়া সিলেকশন: সুইজারল্যান্ডের গ্রাউবুন্ডেন ক্যান্টনের প্রতিনিধিত্ব করে এই দলটি, যেখানে জার্মান, ইতালিয়ান ও রোমানশ এই তিনটি ভাষা প্রচলিত। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তারা প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে।
প্রোভঁস ফুটবল দল: দক্ষিণ ফ্রান্সের ঐতিহাসিক অঞ্চল প্রোভঁস থেকে এই দলের আগমন। এটি স্বাধীন অঞ্চল না হলেও সাংস্কৃতিক পরিচয় খুবই শক্তিশালী, এমনকি সেখানে নিজস্ব ভাষা ‘প্রোভঁসাল’ ব্যবহৃত হয়। দলটি ১৯২১ সালে প্রথম ম্যাচ খেললেও পরে ৮৭ বছর বিরতির পর ২০০৮ সালে আবার মাঠে ফেরে।
তিচিনো সিলেকশন: রায়েতিয়ার মতোই এটি সুইজারল্যান্ডের আরেকটি অঞ্চলভিত্তিক দল। ইতালীয় ভাষাভাষী এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয় আলাদা। ২০২২ সালে কনিফায় যোগ দিয়ে তারা এখন ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলছে।
আরও পড়ুন: এমবাপ্পের চোট: শঙ্কায় রিয়াল মাদ্রিদ, উৎকণ্ঠায় ফ্রান্স
তবে শুধু এই ছয়টি দলই নয়, কনিফা একটি বৈশ্বিক সংগঠন, যার সদস্য রয়েছে সব মহাদেশে। আমেরিকা অঞ্চল থেকে যেমন আর্মেনিয়ান-আর্জেন্টাইন দল, পানামা ও কলম্বিয়ার আদিবাসী গুনা জনগোষ্ঠীর দল, চিলির মৌলে সুর অ্যাসোসিয়েশন এবং আইমারা জাতীয় দল অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও রয়েছে কুর্দিস্তান ফুটবল ফেডারেশন, চলমান সংঘাতের কারণে যাদের সদস্যপদ বর্তমানে স্থগিত; আবখাজিয়া জাতীয় দল, যাকে কেবল কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দেয়; ফিলিস্তিনি শরণার্থী দল, তিব্বত এবং উত্তর আফ্রিকার কাবিলিয়া অঞ্চলও এর অংশ।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কনিফার বিশ্বকাপ বাতিল হয়ে যায়। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি এটি এ বছর নাকি আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত সংস্থাটির তিনটি বিশ্বকাপ হয়েছে। ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে, যথাক্রমে সুইডেন, আবখাজিয়া ও ইংল্যান্ডে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম আসরে ফ্রান্সের নিস অঞ্চলের দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

১ সপ্তাহে আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·