ট্রাম্প বলেছেন, ‘আসলে, এটা আমার কাছে পুরোপুরি হতবাক করার মতো ছিল এবং সেই অনুভূতি কখনোই বদলায় না।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অনুভূতি বদলায় না’ বলে করা মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প সম্ভবত ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারের এক সমাবেশে নিজের ওপর হওয়া হামলা এবং ফ্লোরিডায় তার গলফ কোর্সে ঘটা দ্বিতীয় একটি ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটা শব্দ শুনেছিলাম এবং ভেবেছিলাম ওটা একটা ট্রে। অনেকবারই আমার মনে হয়েছে যে একটা ট্রে নিচে পড়েছে। কিন্তু সেখানে একটা বন্দুক ছিল এবং কিছু লোক ব্যাপারটা বেশ দ্রুতই বুঝে গিয়েছিল। অন্যরা বোঝেনি।’
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলির ঘটনায় যা বললেন বিশ্বনেতারা
‘কী ঘটছে তা দেখার জন্যই আমি নজর রাখছিলাম, সম্ভবত আমার আরেকটু দ্রুত নিচে নেমে যাওয়া উচিত ছিল’, যোগ করেন তিনি।
এসময় নিজের স্ত্রীর বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, কী ঘটেছে সে সম্পর্কে মেলানিয়া খুব ভালোভাবে অবগত ছিলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি বলছিলেন যে, এটা একটা বাজে শব্দ (গুলির শব্দ)।’
কেন ক্রমাগত ‘গুপ্তহত্যার লক্ষ্যবস্তু’ হচ্ছেন বলে মনে করেন– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজেকে আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন,
যারা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, তাদেরকেই টার্গেট করা হয়। যারা তেমন কিছু করে না, তাদের পেছনে তারা (হামলাকারীরা) লাগে না।
প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন ওয়াশিংটন ডিসি হিলটন হোটেলের বলরুমের উঁচু টেবিলে বসেছিলেন ট্রাম্প, যেখানে কয়েক দশক ধরে এই নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ট্রাম্প সেখানে তার স্ত্রী মেলানিয়া এবং সংবাদদাতা সমিতির সভাপতি, সিবিএস নিউজের সাংবাদিক উইজিয়া জিয়াং-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন।
গুলির শব্দ শোনা মাত্রই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ছুটে এসে প্রেসিডেন্টের মাথা ঢেকে দেন এবং তাদেরকে বলরুম থেকে বের করে নিয়ে যান। অন্য এজেন্টরা যখন খাবারের টেবিলগুলো পেরিয়ে মন্ত্রিসভার অন্য কর্মকর্তাদের বের করে আনার জন্য এগোচ্ছিলেন, তখন বন্দুকধারীকে কক্ষটির বাইরে লবি এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: যেভাবে ঘটে পুরো ঘটনা
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও যদি তাকে সম্ভাব্য ‘গুপ্তহত্যার’ আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করতেন, তাহলে তিনি হয়তো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন না।
ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন,
এটা একটা বিপজ্জনক পেশা। আমাকে কেউ বলেনি যে এটা এত বিপজ্জনক একটা ব্যাপার। মার্কো যদি আমাকে বলতেন, হয়তো আমি নির্বাচনেই দাঁড়াতাম না।
পরে তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা বিপজ্জনক পেশা, কিন্তু আমি এটাকে সেভাবে দেখি না। আমি এখানে আমার দায়িত্ব পালন করতে এসেছি।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·