‘প্রশাসনের হাতেই সর্বনাশ’, ‘ভোটে ভয় পাচ্ছে পুলিশ’

৩ দিন আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

 

বড় পতনে রফতানি খাত - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভোটের ডামাডোল, মব সন্ত্রাস আর নানা ইস্যুর আড়ালে নীরবে ডুবছে অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত দেশের রফতানি খাত। পাঁচ মাস ধরে টানা এই খাতের আয় কমছে। কার্যাদেশ অন্য বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। আগামী জুন মাস পর্যন্ত এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন তারা।

 

 

 

বৈশ্বিক চাহিদা সংকোচন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং নীতি সহায়তার ঘাটতির কারণে রফতানি আয়ে এমন নেতিবাচক ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রাক্কালে দেশের রফতানি খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

 

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় অর্থনীতিতে মন্দাভাব - দৈনিক মানবজমিনের খবর এটি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান হতো। তবে প্রবাসী আয় আগের চেয়ে বেশি এসেছে। সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকেন্দ্রে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

 

 

 

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, অর্থনীতির মন্দাভাবের কারণে এডিপি কমানো হয়নি। এবার কেন এডিপি বাস্তবায়নের গতি কম, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে পুরনো প্রকল্প পরিচালকদের অনেককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নতুন প্রকল্প নিয়োগ করতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া অনেক প্রকল্প সংশোধন করতেও সময় লেগেছে। দরপত্রের নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। এসব কারণে এবার অন্যবারের চেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

 

অস্তিত্ব টেকানোর নামে ক্ষত বাড়াচ্ছে জনতা ব্যাংক - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেকোনো ব্যাংকের আয়ের প্রধান উৎস বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত সুদ। এ আয় দিয়েই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানো হয়। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিতরণকৃত ঋণ সম্পদ না হয়ে গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে।

 

 


 

রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকের ৭০ শতাংশেরও বেশি ঋণ এখন খেলাপি। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে সুদ খাতে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লোকসান গুনেছে ব্যাংকটি। ফলে বছর শেষে জনতা ব্যাংকের পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকায়।

 

প্রশাসনের হাতেই সর্বনাশ - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বহাল রাখতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তে অভিনব পরিকল্পনায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিল। ওইসব নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গী ছিল তৎকালীন তিন নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার একাংশ।

 

 

 

তবে ওই সময়কার নির্বাচনব্যবস্থাকে ইসির কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি। অর্থাৎ তিনটি নির্বাচনে সর্বনাশ হয়েছিল প্রশাসনের হাতেই। গত তিনটি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।


গণভোটের ব্যালট একমাস আগেই মাঠে - দৈনিক সমকালের খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভোটের এক মাস বাকি থাকতে গণভোটের ব্যালট মাঠপর্যায়ে পাঠানোর কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যালট এখন সারাদেশের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ট্রেজারিগুলোতে সংরক্ষণ করা হবে। ভোটের আগের রাতে অন্য নির্বাচন সামগ্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের সঙ্গে গণভোটের ব্যালট পেপারও কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে।

 

 

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর এক মাস আগেই গণভোটের ব্যালট পেপার মাঠপর্যায়ে পাঠানোর কারণ হিসেবে ইসি বলছে, এবার দুই ভোট একসঙ্গে হওয়ার কারণে ব্যালট পেপারও মোট ভোটারের দ্বিগুণ পরিমাণ ছাপতে হচ্ছে। এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখেরও বেশি। সেই হিসাবে দুই ভোটের জন্য প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার ছাপার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এত ব্যালট পেপার কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণে রাখতে হিমশিম খেতে হবে ইসিকে। এত ব্যালট পেপার রাখার মতো জায়গাও নির্বাচন কমিশন কিংবা বিজি প্রেসে নেই। তাই আগেভাগেই গণভোটের ব্যালট পেপার ছেপে সারাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে ইসি।

 

ভোটে ভয় পাচ্ছে পুলিশ - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি। 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে অতীতের বিতর্কিত ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে চায় পুলিশ। কিন্তু ভোটের দিন স্বাধীন ও চাপমুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করা যাবে কি না, তা নিয়ে বাহিনীর ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের ভীতি-শঙ্কা।

 

 


পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক ও অন্যান্য চাপের কারণে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণে নির্বাচনের দিন আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চায় পুলিশ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন