প্রতিবেদন মতে, আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইরানের জাতিসংঘ মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের দেয়া একটি হুঁশিয়ারি বার্তা শেয়ার করে বলেছে, ‘আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর অর্থ (৭ ট্রিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেছে ও তাতে ৭ সহস্রাধিক মার্কিনি প্রাণ হারিয়েছিল।’
আলোচনায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বার্তায় বলা হয়েছে, ‘ইরান পারম্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু যদি চাপ দেয়া হয় তাহলে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক টানাপোড়ন তুঙ্গে। এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে এসে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী সামরিক মহড়াও শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে তারা। যেখানে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করেনি ইরান: আব্বাস আরাঘচি
ইরানের পরিস্থিতি অনিশ্চিত দাবি করে ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরান আলোচনা করতে আগ্রহী এবং তারা বহুবার ফোন করেছে।
অন্যদিকে এক মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক্সিওস জানায়, ওয়াশিংটন আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তেহরান যদি যোগাযোগ করে ও শর্ত মেনে নেয় তবে কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব।
তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে চুক্তি আদায়ের পথে হাটছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরানে আরও একটি নৌবহর পাঠিয়েছে মার্কিন সমর দফতর। এই চাপে ইরান চুক্তি করতে সম্মত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতারা মনে করছেন, সামরিক হুমকি আরও বাড়ালে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। তাই ইরানের দুর্বল অবস্থাকে ব্যবহার করে চুক্তিকে প্রাধান্য দেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন: মার্কিন হুমকিতে কিছু যায় আসে না: ইরানের অ্যাডমিরাল
ইরানের সঙ্গে যদি কোনো কূটনৈতিক চুক্তি করা হয়, তার জন্য তেহরানকে একাধিক কঠোর শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সব মজুত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কঠোরভাবে সীমিত করা, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধ করার মতো কঠিন শর্ত দেয়া হয়েছে। তবে চুক্তির বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে কিছুই বলা হয়নি।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·