সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার হাতিগাড়া পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন: সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামের মৃত ছকির উদ্দিনের ছেলে মানিক হোসেন (৪৭), তার সহযোগী একই উপজেলার সমাসনারী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত জাফর প্রামাণিকের ছেলে খোকন প্রামাণিক (৪২)।
গত ২০ মার্চ সকালে নিহত ফজলুল হকের গলাকাটা মরদেহ একটি মাঠের ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। তার আগেরদিন দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
নিহত ফজলুল হক বেড়া উপজেলার হাতিগাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।
বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে কিশোরকে হত্যার অভিযোগ
তিনি জানান, ফজলুল হক অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাতিগাড়া চকপাড়া ভাড়া বাসা হতে অটোরিকশা চালানোর জন্য বের হন তিনি। সারারাত পার হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা।
এরপর ২০ মার্চ সকাল ৬টার দিকে ফজলুল হকের ছেলে আরিফুল শেখ ওরফে স্বপন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন। পরে পুলিশ বেড়া উপজেলার বড় বশিলা মাঠে ধানের জমি থেকে ফজলুলের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরিফুল শেখ ওরফে স্বপন বাদী হয়ে ২০ মার্চ বেড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারদের মধ্যে জোছনা খাতুন নিহত ফজলুর হকের স্ত্রী। আসামি মানিক হোসেন জোছনা খাতুনের প্রাক্তন স্বামী। আর অপর আসামি খোকন প্রামাণিক মানিকের বন্ধু।
আরও পড়ুন: হত্যার পর ফেলে যাওয়া ম্যানিব্যাগে মিলল আসামির সন্ধান
তদন্ত ও গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান আরও জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে নিহত ফজলুল হকের সঙ্গে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। জোছনা খাতুন কাশিনাথপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে লটারির টিকিট বিক্রি করার সময় মানিকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ফজলুল হককে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন জোসনা। তার সঙ্গে কিছুদিন সংসার করার পর জোছনা খাতুন তার দুই সন্তানের কথা ভেবে পুনরায় ফজলুল হকের কাছে ফিরে যান এবং মানিককে তালাক দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ফজলুল হককে হত্যার জন্য নানা সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন মানিক।
এ দিকে আবার ফজলুল হকের সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় অভিযুক্ত মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন জোছনা খাতুন। কিছুদিন আগে মানিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে জোছনার সঙ্গে ঝগড়া হয় ফজলুল হকের। তখন থেকেই জোছনা ক্ষুব্ধ হয়ে মানিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ফজলুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
আরও পড়ুন: তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা, অভিযুক্ত চালক গ্রেফতার
অপরদিকে আরেক অভিযুক্ত খোকনের সঙ্গে ফজলুলের পূর্ব বিরোধ থাকায় তাকেও সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করেন তারা। গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে নির্জন বড় বশিলা মাঠে ধানের জমিতে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক অটোরিকশা চালক ফজলুল হককে লোহার দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে চলে যায়।
এ ঘটনার ১০ দিন পর ফজলুল হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার তিনজন পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

২ সপ্তাহ আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·