পাটের ব্যাগ কি প্লাস্টিক ব্যাগের চেয়েও ক্ষতিকর?

৪ সপ্তাহ আগে
বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনধারার পরিবর্তনের ফলে প্লাস্টিকজাত পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাশ্রয়ী হওয়ায় এর ব্যবহারও বাড়ছে দিন দিন।

কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে সুপার শপ সবধরনের কেনাকাটায় প্লাস্টিক ব্যাগ ও পলিথিনের ব্যবহারই বেশি দেখা যায়। অনিয়ন্ত্রিত এই প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়িয়ে তুলছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা। দূষণ রোধে নানা পরামর্শও দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। 


এর মধ্যে পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ এর ব্যবহার বরাবরই আলোচনায় এসেছে। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং জার্মানির বাউহাউস ইউনিভার্সিটি ভাইমারের এর এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ এক তথ্য। 


এসসিআইপি প্লাস্টিক প্রজেক্টের আওতায় পরিচালিত লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট ভিত্তিক এ গবেষণা বলছে, পুরো একটি জীবন চক্রে একটি পাটের ব্যাগ পরিবেশে ফেলে দেয়ার আগ পর্যন্ত একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের চেয়েও বেশী পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে। কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনচক্র বিবেচনায় নিলে একবার ব্যবহারযোগ্য পাটের ব্যাগের কার্বন নিঃসরণ একটি পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। যেখানে একটি সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগের কার্বন ফুটপ্রিন্ট প্রায় ৫৬.৭ গ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য, সেখানে একটি সিঙ্গেল ইউজ পাটের ব্যাগের ক্ষেত্রে সেটি প্রায় ৩১৩ গ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য পরিমাণ।   

আরও পড়ুন: পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য চর্চায় চুয়েটে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক সম্মেলন

গবেষণায় এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে পাটের ব্যাগের ওজনকে। একটি পাটের ব্যাগ সাধারণত একটি পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগের তুলনায় প্রায় দশ গুণ ভারী। ফলে এর উৎপাদনে বেশি কাঁচামাল, পানি, শক্তি এবং পরিবহন প্রয়োজন হয়, এতে পরিবেশ এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব বেড়ে যায়। ১৮টি পরিবেশগত প্রভাব সূচকের মধ্যে ১৭টিতেই একবার ব্যবহারযোগ্য পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক ব্যাগ তুলনামূলকভাবে ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে একটি পাটের ব্যাগ যদি অন্তত দশ বা তার বেশি বার ব্যবহার করা হয়, তাহলে অধিকাংশ পরিবেশগত প্রভাব সূচকে এটি একবার ব্যবহারযোগ্য লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই) ব্যাগের চেয়ে উচ্চতর কার্যকরিতা দেখায়। 


এসসিআইপি প্লাস্টিক প্রজেক্টের বৈজ্ঞানিক পরিচালক চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. ফারজানা রহমান জুথী বলেন, ‘এটি মূলত লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট ভিত্তিক একটি গবেষণা। আমাদের এই গবেষণাটি পাটের ব্যাগকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এমনটি বলছে না, বরং ব্যবহার এর ধরনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাটের ব্যাগ যদি একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে এর পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবে যেহেতু পাটের ব্যাগ সাধারণত বহুবার ব্যবহার করা হয়, তাই এর মাধ্যমে উৎপাদন থেকে শুরু করে জীবনচক্রের বিভিন্ন ধাপে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। 

 

পরিবেশ কৌশল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুথী আরও বলেন, গবেষণায় পরিবেশে আবর্জনা সৃষ্টির ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা হয়েছে যেটিকে লিটারিং রিস্ক ইন্ডিকেটর বলা হয়। এই সূচক অনুযায়ী, পাটের ব্যাগের লিটারিং রিস্ক ইন্ডিকেটর মান ০.৬৫, যা পরিবেশে খুবই সামান্য আবর্জনা ঝুঁকি নির্দেশ করে। এর বিপরীতে, প্লাস্টিক ব্যাগের ক্ষেত্রে এই মান ২৯৫৬৬ অর্থাৎ পাটের ব্যাগের তুলনায় প্রায় ৪৫৫০০ গুণ বেশি লিটারিং ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়াও প্লাস্টিক ব্যাগ বায়োডিগ্রেডেবল না হওয়ায় এটি পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।


উল্লেখ্য, এসসিআইপি প্লাস্টিক প্রজেক্ট বিএমইউভি, জার্মানির অর্থায়নে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা প্রকল্প।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন