পল্লবীতে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, কী বলছে পুলিশ?

৪ সপ্তাহ আগে
রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই সন্তান ও মা-বাবার মরদেহ। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবার দাবি করলেও; স্থানীয়রা বলছেন পারিবারিক কলহই কারণ। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

রাজধানীর পল্লবীর বিহারী ক্যাম্পের একটি কক্ষে থাকতেন মাসুম ও তার স্ত্রী ফাতেমা, সঙ্গে ছিল তাদের দুই শিশু সন্তান। তাদের সংসারে ছিল স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিশুদের দুরন্তপনা। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেই বাসা থেকেই একসঙ্গে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

 

মৃত চারজন হলেন- মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী ছেলে আসাদ। জানা গেছে মৃত মাসুম রিকশা চালাতেন এবং তার স্ত্রী বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ পরিবার বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিল। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঋণের কিস্তির জন্য বাসায় আসতো।

 

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২ সন্তানসহ মা-বাবার মরদেহ উদ্ধার

 

স্থানীয়রা প্রথম মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ তুলেছে মাসুমের ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের কহলের কারণেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

 

মাসুমের কক্ষের পাশেই স্বপরিবারে থাকেন তার ভাই। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বা বিরোধ ছিল না। বরং ঋণের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মাসুম, আর সেই হতাশা থেকেই এমন পরিণতি হতে পারে।

 

পুলিশ অবশ্য প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এম আলমগীর জাহান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে এবং মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তও হবে। এসব প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

উদ্ধারের পর মরদেহগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্ত চালাচ্ছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন