পর্যটক নেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে

৫ দিন আগে
তীব্র দাবদাহ থেকে স্বস্তি খুঁজতে পর্যটকেরা ছুটে আসছিলেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। নোনাজল আর নরম বালিয়াড়িতে ছিল ভ্রমণপিপাসুদের উচ্ছ্বাস। তবে হঠাৎ বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে বুধবার (২৯ এপ্রিল) ফাঁকা হয়ে যায় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বালুচর। উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৈকতে যেমন মানুষের উপস্থিতি কমেছে, তেমনি সমুদ্রস্নান থেকেও দূরে সরে গেছেন পর্যটকেরা।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এতে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে; ঢেউয়ের উচ্চতা ৬ থেকে ৭ ফুটে পৌঁছাচ্ছে। এর সঙ্গে চলছে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত।

 

বুধবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট এবং হোটেল-মোটেল জোন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই লাবনী ও কলাতলী সৈকত ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। তবে সুগন্ধা পয়েন্টে হাতেগোনা কয়েক হাজার পর্যটক দেখা গেছে। উত্তাল সাগর দেখে কেউ সমুদ্রস্নানে নামেননি; অল্প সময় বালিয়াড়িতে হাঁটাহাঁটি করে হোটেলে ফিরে গেছেন।

 

দুপুরের পর বজ্রপাতের সঙ্গে ভারী বর্ষণ শুরু হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনটি পয়েন্টের বালুচর একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। সৈকতপাড়ের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক, ঘোড়াওয়ালা, জেটস্কি চালক ও ছোট ব্যবসায়ীরাও সরে যেতে বাধ্য হন। ভারী বর্ষণে হোটেল-মোটেল জোনের প্রধান সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ে। যদিও সন্ধ্যার পর বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যায়।

 

আরও পড়ুন: উত্তাল সাগরে ৬-৭ ফুট উচ্চতার ঢেউ, তোয়াক্কা নেই পর্যটকদের

 

হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানমালিকরা জানান, বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা চলছে। বৈরী আবহাওয়ায় অনেক পর্যটক কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন।

 

লাবনী পয়েন্টের চটপটি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘টানা দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ায় সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা একেবারে মন্দায় পড়েছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রিও তলানিতে নেমেছে। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার মাত্র ৫০০ টাকার বিক্রি হয়েছে।’

 

লাবনী ছাতা মার্কেটের ব্যবসায়ী শমসের আলম বলেন, ‘পর্যটক না থাকায় গত দুই দিন ধরে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ। ছাতা মার্কেটের প্রায় দেড়শ দোকানি একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।’

 

প্রাসাদ প্যারাডাইস হোটেলের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকার কারণে হোটেল ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে হোটেলের মাত্র ২৫ শতাংশ রুমে পর্যটক অবস্থান করছেন। আবহাওয়ার অবনতি ও বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেকেই রুম ছেড়ে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন।’

 

ভিস্তা বে রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মো. আউয়াল খান শান্ত জানান, বৈরী আবহাওয়া ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে রিসোর্ট ব্যবসা চরম সংকটে পড়েছে। ৬৪টি রুমের মধ্যে মাত্র ১৪টিতে পর্যটক রয়েছেন। দিনের বেলায় টানা প্রায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ

 

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘অফ-সিজনের কারণে এমনিতে পর্যটক কম, তার ওপর খারাপ আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অনেক হোটেলের বুকিংও বাতিল হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুতই পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে আশা করছি।’

 

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন পয়েন্টে লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় লাইফগার্ডরা টহল দিচ্ছেন। পর্যটকদের পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৈকতে ভাসমান টিউব ও অন্যান্য জলক্রীড়া কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।’

 

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) কক্সবাজারে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুই দিন বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্র নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে এবং ঘরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টিভি, ফ্রিজ, এসি, রাউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন