পদ্মায় জেগে উঠেছে বিশাল চর, দখল নিতে লাঠিয়ালদের দৌড়ঝাঁপ

১ সপ্তাহে আগে
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিশাল নতুন চর। সাবেক লৌহজং ইউনিয়নের পাটলি ও গাউপাড়া মৌজা, কুমারভোগ ইউনিয়নের রানিগাঁও ও খড়িয়া মৌজা, গাঁওদিয়া ইউনিয়নের রানাদিয়া মৌজা এবং শরিয়তপুর জেলার সীমানায় কলিকাল ও আডম মৌজার অংশজুড়ে এই চর দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর হারানো জমি ফিরে পাওয়ার আশায় ভূমি মালিকরা খুশি হলেও, চর দখলকে কেন্দ্র করে নানা কৌশলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে লাঠিয়াল বাহিনী।

নদী যেমন কেড়ে নেয়, তেমনি ফিরিয়েও দেয়-এই প্রবাদ যেন আবারও সত্য হলো পদ্মার বুকে। প্রায় ৩০ বছরের অপেক্ষার পর জেগে ওঠা এই নতুন চর নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। তিন দশক আগে যে রাক্ষুসে পদ্মা ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি গ্রাস করেছিল, আজ সেই নদীর মাঝেই জেগে উঠেছে বিশাল বালুচর। পৈতৃক ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন নদীভাঙনের শিকার মানুষগুলো।

 

স্থানীয়দের মতে, নতুন জেগে ওঠা চরের মাটি উর্বর এবং চাষাবাদের জন্য উপযোগী। এর মধ্যে অনেকে সেখানে যাতায়াত শুরু করেছেন, কেউ কেউ চাষাবাদেও নেমেছেন। অতীতে নিজেদের কিংবা পূর্বপুরুষদের বসতি ছিল; এই বিশ্বাস থেকেই অনেকে নতুন চরে জমির মাপজোক করছেন। চাষাবাদের মাধ্যমে সবুজ বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন ভিটেমাটি হারানো মানুষজন।

 

আরও পড়ুন: পদ্মার মাটি-বালু ভাটায় বিক্রি, হুমকিতে কৃষি

 

চরটির সুনির্দিষ্ট আয়তন জানা না গেলেও বেসরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, এখানে দুই হাজার একরের বেশি জমি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন চর শুধু আবেগের নয়, অর্থনীতির দিক থেকেও সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিতভাবে কৃষিকাজ শুরু হলে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তবে চরের জমি দখল নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ বিষয়ে প্রশাসনের সজাগ নজরদারি জরুরি। স্থানীয়রা জানান, নব্বই দশকের শেষ দিকে ভয়াবহ নদীভাঙনে এই এলাকার একাধিক গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এক রাতেই গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছিল। তখন নিঃস্ব পরিবারগুলো বাঁধ কিংবা রাস্তার ধারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার বুকে জেগে ওঠা ধূধূ বালুচরের কিছু অংশে এরই মধ্যে ঘাস জন্মাতে শুরু করেছে। কেউ কেউ নিজের সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

 

নদীভাঙনের শিকার প্রবীণ খালেক মিয়া বলেন, ‘৩০ বছর আগে নদী আমার সব নিয়ে নিয়েছিল। ভাবিনি মরার আগে আবার নিজের মাটির দেখা পাব। এখন শুধু চাই, সরকার যেন আইনিভাবে এই জমি ফিরে পেতে আমাদের সহায়তা করে।’



আরও পড়ুন: পদ্মার চর বেচে দিচ্ছে কাকন বাহিনী, অস্ত্রের মহড়া-খুনে আতঙ্ক

 

সাবেক রানাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়েনাল আবেদীন জানান, এই চরে অতীতে তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের বসতি ছিল। আরএস রেকর্ডের পর ১৯৯৫ সালে লৌহজং উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়। প্রায় ৩০ বছর পর আবার চর জেগে উঠেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পাটলি মৌজায় ৫০, গাউপাড়ায় ৬০, গাঁওদিয়ায় ২৫ ও রানাদিয়া মৌজায় ২৫ ভাগ জমি জেগেছে। পাশাপাশি শরিয়তপুরের কলিকাল ও আডম মৌজার জমিও উঠে এসেছে।

 

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, পদ্মায় জেগে ওঠা চরের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন