পথে তেল শেষ, পাম্পেও নেই, ১৫ কিমি মোটরসাইকেল ঠেলে বাড়িতে যুবক

২ সপ্তাহ আগে
শুক্রবার ছুটির দিনে মোটরসাইকেল নিয়ে জরুরি কাজে বেরিয়েছিলেন হৃদয়। গাড়িতে কম তেল থাকায় পাম্পে রওয়ানা দেন তিনি। কিন্তু পাম্পে পৌঁছানোর এক কিলোমিটার আগেই অবশিষ্ট তেল শেষ হয়ে যায়। এরপর মোটরসাইকেল ঠেলে পাম্পে পৌঁছান তিনি। কিন্তু বিধিবাম, পাম্প তেল নেই! কোনো উপায় না পেয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল ঠেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোপালবাড়ী এলাকার বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর অধিকাংশ পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় মহাবিপাকে পড়েছেন এলাকার যানবাহন চালকরা। হৃদয় রাজভরের মতো মোটরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের এখন গলদগর্ম অবস্থা অনেকের। মাঝেমধ্যে পাম্পে তেল আসলে বিভিন্ন যানবাহনের চাপে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি ঘটছে।


রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত গাড়ির বিশাল লম্বা লাইন। তেলের পাম্প থেকে শুরু করে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন পড়ে আছে। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে মাঝেমধ্যে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার দুটি পাম্পেরও একই অবস্থা। মাঝেমধ্যে কিছু তেল আসার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুরিয়ে যাচ্ছে। আবার দুই-তিন বিরতির পর তেল আনার পর দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।  


প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূর থেকে তেল নিতে আসা নাজমু হুদা নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই ঘন্টা লাইনে অপেক্ষার পর ২০০ টাকার তেল পেয়েছি। কিন্তু আসা যাওয়া করতে ৫০ টাকার বেশি তেল শেষ। তাহলে আবার আসবো কিভাবে। তেলের জরুরি কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছেনা।


আরও পড়ুন: পদ্মায় বাসডুবি: নিহতদের পরিবারপ্রতি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

গোয়ালন্দ মোড় করিম ফিলিং ষ্টেশনের ক্যাশিয়ার ওমর ফারুক বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষজন গ্রামে এলে গাড়ির চাপ বাড়ে, তেলও লাগে বেশি। স্বাভাবিক সময় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০ লিটার পর্যন্ত এবং ঈদের সময় সর্বোচ্চ ১ হাজার লিটার তেল ফুরায়। অথচ বৃহস্পতিবার একদিনে আমাদের ১ হাজার ৯৮৬ লিটার এবং পরদিন শুক্রবার ১ হাজার ৭৫ লিটারের মতো তেল ফুরিয়েছে। দুই দিনে ৩ হাজার লিটার তেল শেষ হয়েছে। যা স্বাভাবিক সময়ে ফুরাতে ৭দিন লাগতো।’


তিনি বলেন, তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিক সময়ে যা আনতাম এখনও তাই আনছি। ইদানিং প্রতিদিন প্রচুর তেল লাগছে। তেলের জন্য বিশেষ করে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন থাকছে। এত পেট্রোল, অকটেন কারা নিচ্ছে, কোথায় যায়। বিষয়গুলো খোঁজ খবর নেওয়া দরকার।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন