পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাজারে ফের স্বর্ণের দামে বড় উত্থান

৩ সপ্তাহ আগে
বিশ্ববাজারে বড় পতনের পর আবারও স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব দেখা দিয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক লাফে ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৮৭ দশমিক ০৯ ডলারে পৌঁছেছে। এপ্রিল মাসের ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৮৬ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের দরপতনের প্রভাবেই স্বর্ণের দাম বাড়ছে। তেলের দাম কমায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সুদের হার বাড়ার উদ্বেগও কমেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সমাধানের মার্কিন পরিকল্পনার খবর বাজারে এসেছে। ডলারের দুর্বলতা অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য ডলার-মূল্যের স্বর্ণকে আরও সাশ্রয়ী করেছে।

 

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ধস, নেপথ্যে কী?

 

ওসিবিসি’র কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের উত্তেজনা হ্রাস এবং মার্কিন ডলারের শক্তি কমার ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা পুনরায় জোরদার হয়েছে। স্বর্ণের আকর্ষণ এখনও বজায় আছে; এটি সাময়িকভাবে ডলারের কারণে কিছুটা বাজার থেকে ছিটকে পড়েছিল, এখন সেই চাপ কমছে।

 

স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্ত, মার্কিন ডলার এবং ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল থাকতে পারে। তবে এই পুনরুদ্ধার ইঙ্গিত দেয় যে, প্রকৃত ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে পতনগুলো সাময়িক সমর্থন পেতে পারে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলেও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ কমিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র অগ্রগতি করছে এবং তেহরানকে ১৫ দফার মীমাংসা প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

 

আরও পড়ুন: বড় পতনের পর এবার স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়!

 

অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে। যদিও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায়, উচ্চ সুদের হার এই অনুৎপাদনশীল ধাতুর আকর্ষণে চাপ সৃষ্টি করে।

 

সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ অনুসারে, চলতি বছর মার্কিন ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। জেপি মরগান এক নোটে জানিয়েছে, মার্কিন ডলারের অবস্থান এবং ঝুঁকি হ্রাসের কারণে স্বর্ণের দাম এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী স্তরের প্রায় ১৭ শতাংশ নিচে লেনদেন হচ্ছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে এই পতনকে কৌশলগত ক্রয়ের সুযোগ হিসেবে দেখা হয়, এবং সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, দাম বাড়ার সম্ভাবনা ততই জোরদার হবে।

 

উত্থান দেখা গেছে অন্যান্য ধাতুর বাজারেও। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ৭৮ ডলারে, স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৭৮ দশমিক ১০ ডলারে, আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬১ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন