পটুয়াখালী-৩ আসনে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে নূরের সংবাদ সম্মেলন

৪ সপ্তাহ আগে
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নূর বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে পটুয়াখালী-৩ আসনটি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপিসহ গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশ তার প্রার্থিতাকে সমর্থন করছে। তবে উপজেলা বিএনপির আরেকটি অংশ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে ও তার নেতা-কর্মীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, হাসান মামুন উদ্দেশ্যমূলকভাবে আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। তার সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং রাস্তাঘাটে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।নুরুল হক নূর বলেন, গত রোববার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া শ্রমিক অধিকারের নেতা মো. রাকিবকে মারধর করা হয় এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরদিন সোমবার ট্রাক প্রতীকের কর্মী মোহাম্মদ চাঁন মিয়াকে টাকা নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। 


আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন: নুরুল হক নুর


এর আগে চরকপালভেড়া এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।তিনি আরও বলেন, সোমবার রাতে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের প্রচারণা চালাতে গেলে হাসান মামুনের সমর্থকেরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিয়ে স্থানীয় ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর খবর পেয়ে হামলাকারীরা নিজেদের কার্যালয় ভাঙচুর করে ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

 

নুরুল হক নূর বলেন, 'নির্বাচনের আগেই যদি আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর এভাবে হামলা হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছি। অথচ বর্তমানে তিনি কোনো দলের প্রার্থী নন—এমন একজনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সহিংসতা হচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।’

 

তিনি জানান, টানা তিন দিনের এসব ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসন তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

অন্যদিকে, নুরুল হক নূরের অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, 'চরবোরহান এলাকায় আমার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমার লোকজন আহত হয়েছেন। নূরের বাকি অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন