নৌযানে নেই রাডার-ফগ লাইট, কুয়াশায় নৌপথ যেন মরণফাঁদ

৬ দিন আগে
সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুয়াশা। শীতের তীব্রতার সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্বও বাড়ায় নদী পথে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

সবশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতে এমভি জাকির সম্রাট ও অ্যডভেঞ্চার লঞ্চের সংঘর্ষে চার জন নিহত হন। আহত হন অনেকে।

 

ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা আছে, দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারের কম হলে কোনো অবস্থাতেই চালানো যাবে না নৌযান। ১০০ মিটারের বেশি হলে সচল রাখতে হবে, যাত্রীবাহী লঞ্চে রাডার, ভিএইচএফ, জরুরি লাইট, ফগ লাইট এবং হর্ন ব্যবস্থা।

 

এসব নির্দেশনা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে না মানার প্রবণতা লঞ্চ পরিচালনাকারীদের। রাডার, ফগ লাইট বা ইকো সাউন্ডার ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান।

 

হাজারো মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অজুহাতের শেষ নেই। তারা বলছে, রাডার স্থাপনে অনেক খরচ পড়ে যায় তাদের। এরপরও স্থাপনেও লাগে অনেক সময়।

 

আরও পড়ুন: দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ৪ জনের দাফন হলো ভোলায়

 

এদিকে যারা নির্দেশনা মেনে লঞ্চ চালাচ্ছেন, তাদের দাবি, মুষ্টিমেয় কিছু জাহাজে সব ধরনের যন্ত্রপাতি থাকে। বাকিগুলোতে নেই। সব ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চলাচল করলেও নিয়ম অমান্যকারীদের কারণে ঝুঁকিতে থাকতে হয়।

 

অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আইন ২০২১-এ সুনির্দিষ্টভাবে রাডার, ফগ লাইট, ইকো সাউন্ডার বা ফগ হর্ণ বাধ্যতামূলক করা যেমন হয়নি, তেমনি ব্যবহার না করলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়নি এই আইনে। তাই দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর হতে পারছে না নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক মেনেজমেন্ট বিভাগ।

 

নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক মেনেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আমরা যেসব নির্দেশা দেই, তা নৌযান কর্তৃপক্ষ ও চালকরা পালন করে না। নৌযান চলাচলে যেসব যন্ত্রপাতি রাখা জরুরি সেগুলো আবশ্যক করে দেবো। আশা করি আগামী বছরের মধ্যে এসব নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন