নেতা নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি ঈমানি দায়িত্ব। ব্যক্তি স্বার্থ ও সাময়িক সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। নিচে নেতা নির্বাচনে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:
নেতৃত্ব আমানত
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تُؤَدُّواْ ٱلۡأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهۡلِهَا অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন, আমানত তার প্রকৃত অধিকারীর কাছে পৌঁছে দিতে। (সুরা নিসা: ৫৮)
নেতৃত্ব একটি আমানত। এ আমানত অযোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
إِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ অর্থ : যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো। (বুখারি: ৬৪৯৬)
অতএব, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করা ঈমানি দায়িত্ব।
যোগ্যতা ও দক্ষতাই মানদণ্ড
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
إِنَّ خَيۡرَ مَنِ ٱسۡتَٔۡجَرۡتَ ٱلۡقَوِيُّ ٱلۡأَمِينُ অর্থ : তুমি যাকে নিয়োগ দেবে, তার সর্বোত্তম গুণ হবে-- সে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত। (সুরা কাসাস: ২৬)
এ আয়াত প্রমাণ করে, নেতৃত্বের জন্য দুটি মৌলিক গুণ অপরিহার্য, ১. দক্ষতা ২. যোগ্যতা।
আরও পড়ুন: কোরআনে যেভাবে মদ নিষিদ্ধের ঘোষণা ধাপে ধাপে এলো
আমানতদারি ও সততা
অতএব, বংশ, দলীয় স্বার্থ, অর্থ বা প্রভাব নয়-- যোগ্যতা ও নৈতিকতাই হবে নেতা নির্বাচনের মূল মানদণ্ড। হজরত আবু জর গিফারী (রা.) একদিন রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, হে আল্লাহর রসুল! আপনি কি আমাকে কোনো এলাকার শাসক নিযুক্ত করবেন না? তখন তিনি আমার কাঁধে আঘাত করে বললেন,
হে আবু জর! তুমি দুর্বল। আর শাসনকার্য হল একটি আমানত। নিশ্চয় তা হবে কেয়ামতের দিন অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ। তবে সে ব্যক্তি নয়, যে তা যথার্থভাবে গ্রহণ করে এবং নিষ্ঠার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে।
তাকওয়া ও ন্যায়পরায়ণতা
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
إِنَّ أَكۡرَمَكُمۡ عِندَ ٱللَّهِ أَتۡقَىٰكُمۡ অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সে-- যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। (সুরা হুজুরাত: ১৩)
নেতার মধ্যে আল্লাহভীতি ও ন্যায়পরায়ণতা থাকা অপরিহার্য। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ... إِمَامٌ عَادِلٌ অর্থ: কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে--তাদের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। (বুখারি ও মুসলিম)
নেতৃত্ব লোভ নিষিদ্ধ
ইসলামে নেতৃত্ব কামনা করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
إِنَّا لَا نُوَلِّي هَذَا الْعَمَلَ مَنْ سَأَلَهُ অর্থ : যে ব্যক্তি নেতৃত্ব চায়, আমরা তাকে এ দায়িত্ব দিই না। (বুখারি: ৭১৪৯)
কারণ, নেতৃত্ব চাওয়া অহংকার ও ক্ষমতার মোহের লক্ষণ হতে পারে। বরং যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করাই ইসলামের নীতি।
ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণ
নেতার প্রধান দায়িত্ব হলো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণ করার নির্দেশ দেন। (সুরা নাহল: ৯০)
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ অর্থ: তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি ও মুসলিম)
আরও পড়ুন: সৌদি আরব যেদিন রমজানের চাঁদ দেখবে
ভোট আমানত
ভোট প্রদান ইসলামের দৃষ্টিতে সাক্ষ্য ও আমানত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
وَلَا تَكۡتُمُواْ ٱلشَّهَٰدَةَ অর্থ: তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। (সুরা বাকারা: ২৮৩)
]]>
১ মাস আগে
৫







Bengali (BD) ·
English (US) ·