সোমবার (৬ এপ্রিল) এমন দৃশ্য দেখা যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে।
শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা জন্মগত শ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহে প্রয়োজন পড়ে অক্সিজেন হুডের। তবে হাসপাতালটিতে অক্সিজেন হুড না থাকায় স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে প্লাস্টিকের পট। তা দিয়েই চলছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
বরিশালের বাবুগঞ্জের কেদারপুরের বাসিন্দা আব্দুর রহিম মিয়া তার ৭ মাসের মেয়ে শিশুকে নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি করে। কয়েকদিন পর শিশুটির শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় দরকার পড়ে আইসিইউর। কিন্তু আইসিইউর বেড না পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্লাস্টিক দিকে তৈরি ‘হেডমাস্ক’ দিয়ে সরবরাহ করা হয় অক্সিজেন। কয়েকদিন পরে সুস্থ হয়ে উঠে শিশুটি।’
এদিকে প্লাস্টিকের পট দিয়ে তৈরি এ বিকল্প পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করায় শিশুদের স্বাস্থ্য-ঝুঁকি এবং হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক অভিভাবক।
আরও পড়ুন: শেবাচিমের মেডিসিন ভবনে আগুন, অক্সিজেন সংকটে দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
তাদের দাবি, এ পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্লাস্টিকের পটের ধারাল অংশ বা চাপের কারণে শিশুর গলায় আঘাত লেগে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়া শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় তিন-চারটি শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়া এখানে নিয়মিত ঘটনা। এর মধ্যেই অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মাস্কের সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার, ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা জন্মগত শ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য অনেকসময় অক্সিজেন সরবরাহে প্রয়োজন হয় অক্সিজেন হুডের। এর আগে কখনও সেটির ব্যবহার না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি এই প্লাস্টিকের পট দিয়েই অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
শিশু বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে কারণে এটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই কাজ হচ্ছে। এছাড়া এটা ব্যবহারে ক্ষতির কোনো কারণ নেই। শিগগিরই অক্সিজেন হুড আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

২ ঘন্টা আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·